ধর্মের সম্পর্ক – Naser Kamal

ধর্মের সম্পর্ক
           নাসের কামাল

ধর্মের সম্পর্ক বড় বৈচিত্র্যময় । পৃথিবীতে যত বেশী সংখ্যক মানুষ মরা পরছে তার সঙ্গে ধর্মের সম্পর্ক অতি মাত্রায় । এক ধর্মপ্রাণ মানুষ ভিন্ন ধর্মপ্রাণ মানুষকে কখনো শ্রদ্ধা ভক্তি ভালোবাসা দিয়ে আগলে ধরে রাখেনা এটাও তাঁর ধর্মের প্রকৃত আনুগত্য ও নিজ ধর্মের প্রতি মানুষের নিজস্বতা ক্রমাগত বাড়ে যার প্রমাণ ভিন্ন ভিন্ন ধর্মপ্রাণ মানুষ এবং যুক্তি তর্ক খন্ডন করে নিজ নিজ ধর্মের সহ অবস্থানে প্রত‍্যেকেই দাঁড়াবার চেস্টা করে । এই কারনে নিজ নিজ ধর্মের প্রসার যত বৃদ্ধি পাচ্ছে সে ধর্মের দাম্ভিকতা তত সহিংস হয়ে উঠছে পৃথিবীতে । তাই ধর্মের সম্পর্কগুলো পৃথিবীতে শান্তি শৃঙ্খলা সম্প্রীতির সম্পৃক্ততা তা কতটা সুফল বয়ে আনবে ভেবে পাইনি এখনো কোনো তথ‍্য বিজ্ঞানী । ধর্মপ্রাণ মানুষ এতো হিংস্র বলে পৃথিবীর দেশগুলো এক এক করে ভিন্ন ভিন্ন দেশে ধর্ম অবলম্বনে বিভক্ত হয়ে যাচ্ছে । নদ – নদী , বন – জঙ্গল ; আকাশ – বাতাস , পাহাড় – পর্বত্‍ ভাগ হচ্ছে । ধর্মের সম্পর্ক কত ঘৃণ্য ভেবে দেখতে গেলে মানুষ হিসেবে পরিচয় দিতে নিজেরও ঘৃণা হয় । নিজের প্রতি অভিযোগ তুলে কঠিন বিচার্যে কঠোর শান্তির ব্যবস্থা গ্রহণে মনস্থির করে ফেলি এও কখনো কখনো
মনে হয় ।
ধর্ম মানুষকে সমতা থেকে বঞ্চিত করছে , সম্পর্কের সম মর্যাদায় সম্মানজনক আচরণ থেকে পার্থক্য করে ফেলছে । শিল্প , সংস্কৃতি ; রাজনীতি , সামাজিক জীবন যাত্রা সহ সর্বময় প্রকারভেদ মূল্যবোধের ভিত্তিতে মূল্যায়ন হচ্ছে তার এক মাত্র কারণ ধর্মের সম্পর্ক । ধর্মের সম্পর্ক ব্যাক্তি সম্পর্কে এতো বেশি মাত্রাতিরিক্ত যা কখনো কখনো মনুষ্যত্বহীন হয়ে পরছে এই মানুষ । ভুলে যায় ভিন্ন ধর্ম অবলম্বন মুখী মানুষও তাঁর মত একজন রক্ত মাংসের মানুষ । তার মত শরীরের রক্ত সঞ্চালন ধমণী ও একই শ্বাসতন্ত্রে পরিচালিত ।
অথচ বেঁচে থাকার জন্য এই জল , বায়ুমন্ডল ; আলো – অন্ধকার , চন্দ্র ; সূর্য প্রকৃতির সমস্তকিছুই এক প্রকার সম ভাবে উপভোগ করছি । সকাল , দুপুর ; বিকেল , সন্ধ্যে ; রাত্রি এইভাবে প্রহরগুলো তাদের নিজস্বতার বিকেন্দ্রিকরণ করে সমস্তকিছু উদারতায় দি‍য়ে যাচ্ছে ক্রমাগত বাধাহীন ভাবে বাঁধনহারা এক প্রকৃতি । আকাশের তারা কেউ কখনো গুনে দেখেনি কত তারার আলো জ্বলে যুগযুগন্তর অমিত রাতটাকে সুসজ্জিত করে আসছে । দিনের এতো আলাের বিকিরণ কি করে ছড়াচ্ছে সূর্য , বাতাসের অশরীরী কি করে আঘাত হানে বিশ্বময় ,
এতো বৃষ্টি ফোটা আকাশ ফুটা করে কি করে পৃথিবীতে অবতীর্ণ হয় , বর্যার ধারা কি করে মাটিকে সহসা উর্বর করে তুলে ?
অথচ ধর্মের সম্পর্ক যা পারে মানুষে মানুষে ভেদা ভেদ প্রবৃদ্ধি গড়ে তুলতে , মানুষে মানুষে হানাহানি কাটাকাটি মারামারিতে লিপ্ত করে দিতে এবং সম্পদ , সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ও জীবন কেড়ে নিতে সহায়তা করে ধর্মের সম্পর্ক । এর পরেও মানুষ সর্বোত্তম সবার চেয়ে সর্বস্বীকৃত সভ‍্য প্রানী । বৃক্ষ ও বনভূমি নিধন নির্মুল করি ; পুকুর , নদী ; বড় বড় জলাশয় ভরাট করি নিজেদের সার্থে , মাছ ,মাংস ; শাক-সবজি , দুধ ; ডিম , ফলমূল জীবন জীবিকায় তা সংগ্রহ করে ভক্ষণ করে থাকি । এই ক্ষেত্রে ধর্মের সম্পর্ক ছিন্ন করে ভাবতে হয় জাতি ও জাতীয়তা নিজ নিজ দেশের সার্থে । কতো বড় সার্থপরায়নতা ধর্মের সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারে তা প্রাচীন ইতিহাস ঘাটলে আরও নির্ভুল ও স্পষ্ট হয়ে যাবে নিজেদের কাছে ।
ধর্মের সম্পর্ক মানুষকে ছোট অবস্থা থেকে ঈর্ষান্বিত করে গড়ে তুলে । ঘৃণা করতে থাকে ভিন্ন ধর্ম অবলম্বনী মানুষ ও রাষ্টকে । রাষ্ট্রগত নীতিমালায় ধর্মের সম্পর্ক নীতিনির্ধারক মতে মানুষের মূল্যবোধ সম্পূর্ণরূপে খর্ব করে ফেলে । তাই ধর্মের সম্পর্ক নিধন না করে করছি বন জঙ্গল নদীনালা খাল বীল হাওড় জীবজন্তু পশু পাখি মানুষ । এই সম্পর্ক কখনো চির স্থায়ী নয় । ভাঙা গড়ার আবর্তে যতোদিন যেদিকে গড়িয়ে নিয়ে যায় যাবে । যতোদিন নিজেদের আধিপত্য বিস্তার করবার করবে । এক সময় ঠিক প্রকৃতির চিরাচরিত নিয়ম শৃঙ্খলে বন্দী হয়ে যেতে হবে । তখন ধর্মের সম্পর্কের প্রতিরোধ ক্ষমতা এক বিন্দুমাত্র থাকবেনা , থাকবেনা রাষ্ট্রের কোনো ক্ষমতা । প্রকৃতি এমন এক মহা শক্তি যা ধর্মের সম্পর্ক রাষ্ট্রগত ভাবে প্রমাণ ও প্রভাব উপলব্ধি বা স্পষ্ট ধারণা তোমরা পাচ্ছো হরহামেশা ।
শক্তিধর ধর্মের সম্পর্ক ও রাষ্ট্রের সাথে বিরোধ সৃষ্টি করে চিরদিনই ভুক্ষা দারিদ্রসীমার নিম্নরূপ দেশগুলো কখনো মাথা চাড়া দিয়ে উঠতে পারিনি । তবে পারবেনা এমন নয় ? মূল বিষয় হলো উত্থান পতন দিয়ে ধর্মের সম্পর্ক কখনো বিশ্ব মানব প্রেম সম্পর্ক গড়ে তুলতে কখনো পারিনি পারবেওনা ।
এই করে হাজার হাজার বছর যাপিত হয়েছে ভবিষ্যতেও হবে কিন্তু কখনো মানুষে মানুষে ভেদাভেদ লোভ হিংসা ক্ষোভ কখনো হ্রাস পাবেনা । মানুষের দুঃখ কষ্ট লাঘব হবেনা । মানুষ যে ধর্মের সম্পর্ক এই পৃথিবীতে চির প্রতিষ্ঠিত বা স্থাপন করতে প্রাণপণ প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে তা কোনোভাবেই সম্ভবপর নয় ।
এক মাত্র পারে এই সম্পর্ক স্থাপন করতে মানব প্রেম । মানব ধর্মের যুগান্তকারী এক সমাধান নিরসনে সকল ধর্মের সম্পর্ক এক ধর্মের কাছে কোনো দিনা কোনো দিন সম্পূর্ণ বিলিন বিলুপ্ত হয়ে পরবে । যে মানব প্রেম ধর্মতত্ত্বমতে যে ধর্মপ্রাণ হবে – মানুষের মধ্যে থেকে মানুষকে কখনো ভেদাভেদ করবেনা , যে পশু পাখি জীবজন্তু গাছ – পালা লতাপাতা পাহাড় – পর্বত্‍ , নদ – নদী , চন্দন – সূর্য কিটপতঙ্গ সব কিছুকে যখন মানব প্রেম ভালোবাসা দিয়ে আগলে ধরে সংরক্ষণ করবে তখন সৃষ্টি হবে বিশ্ব মানবতা বিশ্ব প্রেম । বিশ্বের আকাশ হবে
দেশের আকাশ নিজের আকাশ । মাটি আলো বাতাস সব কিছুতেই সমতা রেখে বিচরণ করবার অধিকার গড়ে উঠবে বিশ্বের সকলের ।
একজনের বিপর্যয়ে বিশ্বের মানব প্রেমের হাত এগিয়ে এসে সর্বময় সহায়তা প্রদানে ব্যাস্ত হয়ে উঠবে । তখন আপানার অনুভূতি ও মন মানসিকতা কেমন মনে হবে একটিবার ভেবে দেখুন ।
তাই সবাই মানবিক হবেন মানব প্রেমে ভরপুর থাকবেন । পৃথিবীর সকল সৃষ্টিকে ভালোবাসবেন তবেই পৃথিবীর সকল সৃষ্টি আপনার দিক থেকে কখনোই পশ্চাৎ মুখী হবেনা । মুখ ফিরিয়ে নিবেনা দিগন্তের শেষ গোধূলি বেলার মত —-

2 thoughts on “ধর্মের সম্পর্ক – Naser Kamal

  • মানবতা ই ধর্ম ।যে দৃশ্যমান মানুষ কে ভালোবেসে না সে অদৃশ্যমান সৃষ্টিকর্তা কে কি করে ভালো বাসবে ? তাছাড়া আল্লাহর সৃষ্টি কে ভালো না বাসলে তাঁকে পাওয়ার প্রশ্ন ই উঠেনা ।সবার উপরে মানুষ সত্য, তাহার উপরে নাই । ধন্যবাদ নাসের কামাল ভাই আপনাকে এতো সুন্দর একটা লেখার জন্য ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *