পরাণ ভাই । PART- 17 Naser Kamal

পরাণ ভাই ।

PART-17

 

———————–ঃ নাসের কামাল

গল্পটির স্থান , কাল ; পাত্র ও কাহিনী এমন অনেক কিছুই কাল্পনিক :-

আজ প্রথম এই আলস্য জোছনা রাতে মরণপুরকে দেখছি ।

এক্সট্রা – ” সুপারমুন “এর খপ্পরে পৃথিবীর আলো আজকেও স্থির হয়েছিলো কিছুটা । তার উষ্ণ আদ্রতা নিয়ে কুয়াশা ফুঁড়ে দিচ্ছিলো । দেখছি তারি জোছনায় কুয়াশা ফেঁড়ে ফুঁড়ে মরণপুরকে কেমন আলো করছে । দেখছি মরণপুরকে বিস্তৃত কুয়াশার সাদা চাদরে মুড়ে মুখ ঢেকে দিয়েছে । পোড়া মাটি আর কুয়াশা ভিজা রাস্তায় একত্রে বেশ পা ভিজিয়ে চলছিলাম । কিছু কিছু ঘরের হারিকেন – এর আলো । খুব সামান্য ঘরের ফুটো ভেদ করে বেড়িয়ে আসতে চাইছিলো বাইরে । মড়লের ছেলেটি সঙ্গে থেকে পথ চিনিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলো । পরাণ ভাই আজ ইচ্ছে করে প্যান্টের সাথে ব্লু কালারের জ্যাকেট পড়ে নিয়েছিলো অনেক আগে থেকেই । প্যান্টের সাথে সেইভাবে নিজেও একটা জ্যাকেট পড়ে নিয়েছি বাধ‍্য হয়েই । আমির আলী মোটা চাদর মুড়ি দিয়ে সবার পিছন পিছন ছিলো । পরাণ ভাইয়ের সব ঠোঁটস্ত ছিলো তাই বোধহয় দেখলাম না তেমন ভিন্ন কোনো প্রতিক্রিয়া । বুকের নিকটস্থ সবকিছু পরীক্ষা নিরীক্ষা করে একবার দেখে নিলাম । চেক করতে গিয়ে হঠাত্‍ বুকটা ধুক করে উঠলো । ভীষণ ভুল করে ফেলে এসেছি একটি দরকারী জিনিস । যেটি নিয়ে এসেছি । এটি ছাড়াও আরেকটির জন্য প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হবে না হয় সকলের গর্দান যাবে । মৃত্যুর কথাটাই প্রথমে স্মরণে এলো । এ মুহূর্তে ফিরলে মড়লের ছেলেটা মাইন্ড করবে । পরাণ ভাইকে বলে কোনো সমাধানও হবেনা । আর এ মুহূর্তে মুখ খোলবার কোনো ইস্কোপও নেই । জানি এখন খুব ভালো একটা কথা বললেও সন্দেহ করবে । পূর্বের নির্দেশ মতো নিরব থাকলাম । দূর থেকে দেখলাম মড়লের গোলা ঘরগুলো তার গলির সামনে গোসল করছে আজকের এই আলস্য জোছনায় । গোল গোল এতো মস্ত প্রকান্ড গোলা ঘর জীবনে কোথাও দেখিনি । রহণপুরে আহম্মদীয়া ভবনের সামনে বড় বড় দু’টো পাইকড় গাছ ছিলো । একটি গাছের নিচে দু’টো গোলা ঘর অনেক দিন আগে দেখেছিলাম । তাও এগলোর একটার সমান হবে না । চারিদিকে চোখ ফিরিয়ে দেখলাম একটাও বৃক্ষ নেই । মনে মনে বলছিলাম কুর্তা বিড়ালও কি নেই একটা এখানে ? বুকটা ধস ধস করে উঠলো এতোক্ষণে ! হঠাত্‍ আচমকা একটা দুনিয়া কাঁপানো শব্দ হলো । বন্দুকের গুলির আওয়াজ এটা । আমির আলী জড়িয়ে ধরলো পিছন থেকে । নিজের হুশ বলতে শুণ্য তখন । তার সাথে নিজেও জড়িয়ে গেছি ভয়ে । সবকিছুতেই অপ্রস্তুত ছিলাম বলে এমন ঘটনায় আতঙ্কিত না হয়ে পারিনি কেউ । পরাণ ভাই স্ট‍াচুর মতো দাঁড়িয়ে গেছিলো । অদূরে বন্দুক হাতে দাঁড়িয়ে ছিলো একজনকে দেখলাম । বাঁঠা শ‍্যামলা রঙের বেশ নাদুস নুদুস মানুষটা । হাঁটার স্টাইল দেখে মনে হলোনা তার কোনো দাপট আছে ! তাকে চিনতাম না । সাথে সাথে মড়লের ছেলেটি বলল ,
– হামাদের দেবতা ।
দেখলাম দুইজন মেয়ে দেহ রক্ষী হঠাত্‍ তার পাশে গিয়ে দাঁড়ালো । দুজনই দেখলাম মোটামোটি সুন্দরী । তারপরও একজনের চেয়ে একজনকে বেশী সুন্দর মনে হলো । সামনে যেতেই পরাণ ভাই ওদের মতো সালাম জানালো মড়লকে । পরাণ ভাই এগিয়ে গিয়ে প্রথমেই একটা ছোট্ট কাগজের চিঠি তুলে দিলো মড়লের হাতে । মড়ল চোখ ভিড়িয়ে দেখলো তার টর্চ লাইটের আলোতে । মুখে হাসি দিয়ে মেয়ে দু’টোকে বলল ভিতরে নিয়ে যেতে ।
– লিয়ে যা হামার বৈঠাকে । ওরা হারিকেন দেখিয়ে চলতে লাগলো ।
মেয়ে দুজনকে অনুসরণ করে যেতে লাগলাম । তখন খালি মনে হলো বন্দুকের কার্তুজের শব্দ করার আগেই নিজের প্রথম টিগারটা টিপেছিলাম কিনা ? মনে পড়ে ভীষণ খারাপ লাগতে লাগলো । কার্তুজের শব্দটাই এখন
মাথার মধ্যে বোঁ-বোঁ করছে । আবার মনে হলো প্রথমেই যে ভুল করে এসেছি । এটা মিলে দ্বিতীয় ভুল । এরপর যা দেখছি সবই গন্ডগোলের আয়ত্তে বাঁধা পড়ে আছি মনে হলো । এদিকে চব্বিশ ঘন্টা হয়নি গোল্ডেনর বউ প্রায় সুস্থর পথে । দ্বিতীয় ডোজ খেয়ে সে বিছানা ছেড়ে হেঁটে চলে বেড়াচ্ছে । চারিদিকে এ খবর নিয়ে দারুণ শোরগোল । মুখে মুখে শোল্লাপরমর্শে সকলেই ব্যস্ত ছিলো তখন । এ খবর সবার আগে জানবে মড়ল । তাহলে বাঁচালে পরাণ ভাই এক মাত্র বাঁচাবে । এমম ভয়াবহতা ভাই ছাড়া ভাবতেই পারছিনা এ মুহূর্তে । নিজের কাছে যা সম্বল ছিলো সব শেষ করে ফেলেছি ।
একটা উত্তর দক্ষিণ মাটির দীর্ঘ লম্বা বারান্দা পেরিয়ে একটি মাটির ঘরের মধ্যে নিয়ে গেলো তিনজনকে । ঘরে প্রবেশের পর লক্ষ করলাম মড়লের ছেলেটি মড়লের কাছেই থেকে গেছে । ঘরটা খুব বেশি বড় না । এর পর আরও একটি ঘর টপকে গেলাম । এই ঘরটা প্রস্থের চেয়ে দৈর্ঘ্যই ছিলো বেশী । এরপর মস্ত বড় আয়তন জুড়ে একটা আঙ্গিনায় যখন পা রাখলাম । দেখেই চমকে গেলাম ! চতুর্দিকে অগনিত ঘরের দরজা । এখন কোন দিকের ঘর দিয়ে ঢুকে এলাম । সেটাই ভাবতে পারছিনা । বাড়ীর ভিতর এতো বড় ফানশন করে রেখেছে সত‍্যি অবাক হয়ে গেলাম দেখে । এখন অবাকটা দূরে থাক তার চেয়ে ভয়টাই কাজ করছিলো বেশী । মেয়ে দুজন নিয়ে গিয়ে বসলো পূর্ব দিকের একটি ঘরে । বেশ বড়সড় ঘর । তাহলে এটাই মড়লের বৈঠক ঘর হবে । বেশ অনেক কটাই কাঠের খুব কম মূল‍্যের চেয়ার ছিলো সেখানে রাখা । একটা হাতল ওয়ালা চেয়ার টাপরের নিচে রাখা দেখলাম । ওটা মড়লের বুঝাই যাচ্ছে । আমির আলী দাঁড়িয়ে থাকলো । পরাণ ভাই বসার পর নিজে বসলাম একটিতে । ঘরটাতে বিশেষ কিছু নেই । মাটির দেয়ালে ঝুলানো দুইটা মাথল । তিনটা বাঁশের ডালি আর উত্তর মুখে একটা গরু গাড়ির টাপর ঝুলতে দেখলাম উঁচু চালার নিচে । এর মধ্যেই মড়ল একা এসে তার হাতল চেয়ারটায় বসে চাল চিবাতে লাগলো । হাতে আরও চাল ছিলো । হাতের চাল একটু করে মুখে ছুঁড়ে দিচ্ছে । দেখে মনে হলো বাচ্চা ছেলেমানুষী ভাব আছে এখনো । কিন্তু মানুষটা অসম্ভব ভয়ঙ্কর ও বদ মেজাজি দেখে বুঝবার উপায় নেই । বুঝলাম যখন মেয়ে দু’টোকে নির্দেশ দিলো ,
– তুরা দ‍িখ । ইদের দিখে লে উল্টে পাল্টে । মড়ল চাল চিবাতে থাকলো । মেয়ে দু’টো এগিয়ে এলো । প্রথমেই পরাণ ভাইয়ের সার্চিং পর্ব । দু’টো মেয়ে মিলে চেকিং করছিলো । মেয়ে দু’টোর হাবভাব দেখে মনে হলো ন্যাংটা করে দিবে । প্রথমেই জ‍্যাকেট খুলিয়ে নিলো । দুজনেরই দূর্দান্ত সাহস । মেয়ে হয়েও গায়ের ভিতর হাত চালিয়ে দেখে নিচ্ছে । ওরি ফাঁকে শরীর টিপেটুপে নিচ্ছে ।
মদনা বাছুর গরুর মতো মেয়ে দু’টোর শরীর । জ‍্যাকেটের ভিতর থেকে বের করে আনলো একটা ষ্টেথিস্কোপ । সেটা দেখার পর প্রথম ভুল করবার ভয়টা কাটলো । পরাণ ভাইয়ের সংশোধনী পাওয়ার দেখে বিস্মিত হলাম । কারণ সেটা সত‍্যি প্রকট ও পাওয়ার ফুলও বটে । নিরবে থ্যাংকু জানালাম একটা । পরাণ ভাইয়ের পর এলো এদিকে । ভিডিও ক্যামেরা টা বের করবার সময় দেখে নিলাম বোতাম টি হ‍্যাঁ ঠিক ওয়ান করেছি ঠিকঠাক । তাহলে দ্বিতীয় ভুলের ব্যাপারটিও নিশ্চিন্ত হয়ে গেলাম । এখন সবটাই পরীক্ষা । এখন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেই হলো । ক্যামেরাটা আবারও দেখে নিলাম । পরাণ ভাই এদিকে একবার চোখ ঘুরিয়ে দেখিয়ে বুঝালো তুই যে ভুল করেছিলি ,
আজ জান জেতো সবার । আমির আলীর লুঙ্গি ঝাড়িয়ে চেক করলো । ওর লুঙ্গির কোচা থেকে টোপ করে এক বান্ডিল ইন্ডিয়ান বিড়ির মুঠো মাটিতে পরলো । দু’টো মেয়েই অত‍্যন্ত অভদ্র একটু টের পেয়েছি । ক্যামেরায় সেট করাছিলো প্রেসার মাপার যন্ত্র । প্রেসার মাপতে ওটার সঙ্গে স্টেথিস্কোপও লাগে । সূক্ষ নির্ভুল নিরূপন । সন্দেহ করবেনা এমনভাবে সব সেটাপ করে আগে থেকেই সেট করে রেখেছিলো পরাণ ভাই । সেভাবেই সকল ব্যবস্থা গ্রহণের মধ্যে সব ছিলো । বাকিটা নিজেদের উপর এখন । এমন সময় মড়ল দিলিপিয়া বলে উঠলো ,
– তুদের মধ্যে ডাক্তার কে আছে ?
– আমি ডাক্তার ।
– তুর নাম বুল ডাক্তার ?
– শ্রী শিতেস চন্দ্র দাস
– শ্রী গিয়াস মুখার্জি ডাক্তার তুর সম্পর্কে কি লাগলো ?
– আমার কেউ না ।
– তেবেক ! দাঁড়িয়ে গেলো হঠাত্‍ মড়ল ।
– গিয়াস ডাক্তার সম্পর্কে সব শ্রী সত‍্যেন পাল বলতে পারবে আপনাকে । ওকেই জিজ্ঞেস করুণ ।
– আমি সত‍্যেন পাল ।
– তু
– জি
– এ কে তেবেক ?
– গাড়িয়াল । শ্রী ভরত ওর নাম ।
– একে লি যা তুরা ? মেয়ে দুজনকে নির্দেশ করলো । মেয়ে দুজন আমির আলীকে ঘর থেকে নিয়ে বেরিয়ে
গেলো ।
– তু বুল সত‍্যেন ।
– স‍্যারের কাছে শুনেছিলাম মরণপুর সম্পর্কে । স‍্যার মারা যাবার পূর্বে আমাকে বলে গেছিলো । তুই মরণপুর গিয়ে দেখা করবি মড়ল দিলিপিয়ার
সঙ্গে । এবং সঙ্গে করে বিশ্বস্ত একজন ডাক্তার নিয়ে যেতে বলেছিলো বিশেষ করে আমাকে । আমি এই স্যারকে খুবই ভালো জানি ।
– হামি দিলিপিয়া ?
– নমস্কার ।
– নামস্কার ।
– মরণপুরে ধান উৎপন্ন হয়না আমি জানি । এবং কেনো হয়না সেটাও জানি । এই বুভুক্ষাদের জব্দ করে আপনি কাট ফসলের বিনিময়ে ওদেরকে সম ওজন করে ধান দেন , সেটাও আমি জানি । আপনি গত বছরে স‍্যারকে নিয়ে ঠিক এই সময় তাজিন ডং বান্দরবানে ছিলেন ।
– তুকে বুলেছে ?
– সবকিছুই বলতো আমাকে । এবং কি তাজিন ডং থেকে ফিরে আপনার সঙ্গে আর দেখা হয়নি সেটাও বলেছেন স্যার মৃত্যুর দুইদিন আগে আমাকে । আমি এরপরই এই স‍্যারকে সব খুলে বলেছি । এই স‍্যার আমাকে সহযোগীতা না করতে চাইলে হয়তো কখনোই আপনার জন্য কিছু করা সম্ভব হতোনা আমার ।
– তুদের বাড়ী বুল ?
– রতবাড়ী ওভার ব্রিজের কাছে । এ স্যারের বাড়ী ঝলঝঝি ষ্টেশন যেতে রেল ক্রসিং ছেড়ে উত্তর দিকে দুই তলার পাকা বাসাটা ।
– মাখার্জি তুকে এতো বিশুয়াস কারে লিলো !
– মুখার্জি স্যারের বাড়ী প্রায় সময় প্রতিবেশীর সুবাদে যেতে হতো আমাকে । তাছাড়া ভালোবাসার টানেই বেশী যেতাম ।
– মাখার্জির বাড়ীর সামোনটা বুল
দিকি ?
– আইসক্রীম এর একটাই বড় মিল আছে সেখানে । এছাড়া আশে পাশে সব মানুষের বিল্ডিং ।
– থামেক ! মুখার্জির আরেক নাম বুল ?
– নগেন মুখার্জি নামেও অনেকে জানে ।
– তেবেক তুরা একটা বাড়া ভুল কারে দিলি । তুরা গাল্ডেনের বাহুকে জিন্দা কারলি কেনে ?
এবার অঢেল আত্মবিশ্বাস নিয়ে পরাণ মুখ খুলল ,
– আমরা ইচ্ছে করেই বাঁচিয়েছি । আপনার ভালো লাভজনক হবে ভেবেই – পরাণের মুখ থেকে কথা কেড়ে বলল মড়ল ।
– থামেক ! তুদের না দিমাক ঠিক আছে । এখানে সাভাই মারবে । খালি হামাকে জিন্দা কারবি । তুরাই নিয়ম ভাঙে দিলিরে হামার ?
– আপনি যে উদ্দেশ্যে ওদের মারছেন । তাতে আপনার উত্‍পাদন বারছে না বরং কমছে । আমরা চাই আপনি যে নিয়মে মুসরি । ডাল । হলুদ । সর্ষে । মটর দানা । কালায় । উত্‍পন্ন করছেন , তারও বেশী বেশী যেন উত্‍পন্ন করতে পারেণ । সে ব্যবস্থায় আমরা আপনাকে করে দিবো । কিন্তু ওদের এভাবে মেরে ফেলে আপনি কোনদিনই লাভবান হতে পারবেন না । আমাদের সুন্দর পরামর্শ আপনি যদি গ্রহণ করেণ । তাহলে আপনাকে এটাই বলবো , এদের বাঁচিয়ে রাখেন । বরং এদের দিয়েই আপনি সাত আসমানে উঠে যান রাতারাতি ।
– কি বালছিস তুরে !
– প্রয়োজন বোধে পপি ও গাঁজার চাষ করেণ । দু’টো গাছের চারা সংগ্রহ করে নেন কোনোভাবে । দেখছেন না দুনিয়াটা কেমন বদলে গেছে । যতসব ধনী হয়েছে । এই আফিম হেরোইনের ব্যাবসা করেই ধনী হয়েছে । আর আপনি সেই সব নিজেই উত্‍পন্ন করবেন । আমিতো ভাবতেই পারছিনা ! মরণপুরের মতো এমন দূর্গম যায়গায় কি ভুলেই না করছেন আপনি ?
– তুরাতো হামার দিমাক না ঠিক
রাখবি । কি বালছিসরে । ওর অভ‍্যেস মতো চাল চিবাতে লাগলো মড়ল । এর মধ্যে পরাণ আবারও বলল ,
– মরণপুরের মানুষ সুস্থ থাকলে ক দিন লাগবে আপনাকে বিলগেটস হতে । পপি আর গাঁজার চাষ করে সবকটা গোলা ভরে দেন । দেখেন কি হয় অবস্থা –
– তুর বুদ্ধি আছে ডাক্তার !
– তাছাড়া লাভবান হতে পারবেন না । এতোদিন অনেক সময় নষ্ট করেছেন ।
– তুদের কি এগলারে ।
পরাণ ক্যামেরা ও ষ্টেথিস্কোপ নিয়ে মড়লের কাছে এগিয়ে গেলো দ্রুত । মড়লের হাত ধরে প্রেসার মাপলো । মড়লের প্রেসার মাপার সময় মরলকে খুব স্বাভাবিক মনে হলো । সে নিজে থেকেই বলল ,
– তু হামার এখানে থাকবি লা । তুর লিগে ঘর হামি ঠিক কারে লিছি । তু কাকে লিবি তুদের – তু লিবি ।
– আপনি ফিট । এই বয়সে ভগবান আপনাকে খুব সুস্থ রেখেছেন । আপনি চিন্তা করবেন না । আর হ‍্যাঁ গাঁজা ও হেরোইন এর ব্যাবসা সম্পর্কে আপনাকে বলছিলাম বটে । কিন্তু কেনো জানি মনে হচ্ছে আপনি এটা করতে পারবেন না !
পরাণ কথাটা বলেই মড়লের চোখের দিকে তাকালো । মড়ল চোখ তীক্ষ্ন করে সঙ্গে সঙ্গে প্রতি উত্তর করে উঠলো ,
– ক‍্যানেরে , ক‍্যানে পারবেকনা হামি ।
– অনেক বাঁধা আছে । সরকারের অনুমতি নিতে সমস্যা হবে আপনার ! সম্পূর্ণ বেআইনি আইন বিরোধী কাজ এটা !
– হামি মান্ত্রীকে বুলে কারে লিবো । না কারবেনা – না কারবেনা । আখুন থাক তুকে লিয়ে হামি কাল সাব ঠিক কারে লিবো । যা । তুরা যা । আর দ‍্যাখ কাল থিকে তু এখানে ঘুমাবি ডাক্তার । আখুন যা – যা তুরা যা । চালে যা –
মড়ল গভীর উত্‍কন্ঠা থেকে উঠে যেন শ্বাস ছেড়ে দম নিলো বড় বড় । মনে হচ্ছিলো চাল জিবানো মুখটাও দমে গিয়ে যেন একটু দম নিলো । পরাণ রা উঠে যাচ্ছিলো এক পা দুই পা করে । মড়ল পিছন থেকে খোপ করে পরাণ এর হাতটা চেপে ধরলো । কানের কাছে মুখ ভিরিয়ে ফিসফিস করে কি বলল । ওতেই পরাণ মুচকি হাসলো দিয়ে বলল ,
– না দেখে বলা সম্ভব নয় । আমি দেখবো তারপর বলতে পারবো আপনাকে । মড়ল এবার আমির আলীকে ডেকে পাঠালো । ক্ষনিকের মধ্যে আমির আলী ঘরে ঢুকলো । সবাইকে মড়ল নিজে এগিয়ে দিতে গেলো বাড়ীর বাহির পর্যন্ত । নিজে ধরে রেখেছিলো হারিকেন । নিজেই হারিকেনের আলোটা তুলে দিলো । সদিচ্ছায় আপ্যায়ন করলে যেভাবে মানুষকে সমাদর করে ওভাবেই করলো শেষ পর্যন্ত মড়ল । সিপুরা এগিয়ে গেছে সামনে ইতিমধ্যে । গোলা ঘরের কাছে এসে মড়লকে পরাণ আসস্থ করলো সম্পূর্ণরূপে । কানের কাছে মুখ নিয়ে খাটো স্বরে বলল ,
– কাল আসছি । ভগবান ঠিকঠাক থাকলে ঘরের প্রদীপ জ্বালিয়ে দিব আপনার । চিন্তা করবেন না ! মড়ল আবারও হাতটা চেপে ধরলো । পরাণ ভাবছিলো এরি মধ্যে আমির আলীকে দেখলো তারা যেদিকে কায়েলের বাড়ির উদ্দেশ্যে যাবে তার বাঁকের রাস্তায় দাঁড়িয়ে আছে সিপুর সঙ্গে । জোছনার জোয়ারে কুয়াশা মেখে ভাসছিলো গোলা ঘরগুলো । সেই কুয়াশার ভিতরে ডুবে থেকে আনন্দের হাসিটুক পরাণ মনে মনেই উপভোগ করলো । মনে মনে
বলল । This opportunity would put Muni Rohanpur homeopathic doctor.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *