পরাণ ভাই । PART- 2 Naser Kamal

পরাণ ভাই ।

PART-2

 

———————–ঃ নাসের কামাল

শ্রদ্ধেয় মানাস মিত্রা দাদার নাম করণে গল্পটির নামঃ
” পরাণ ভাই ” ।

পরবর্তীতে এক কিশোরী চরিত্রে যাকে এই গল্পে টেনে আনা হবে তাঁকে আপনারা সকলেই ধিরে ধিরে চিনবেন । তবে গল্পটা নিয়ে খুব বেশী এগিয়ে যাবোকিনা ভাবছি ।
—————————- নাসের কামাল


এমন
ফুটফুটে নির্মল সকাল দেখেছি কম বলে মনে হলো ।
রহণপুর পৌরসভার রাস্তায় অন্যদিনের মতই ছিল খুব স্বভাবিক চলাচল । দু একটা কুকুররের ঘেউ ঘেউ আওয়াজ মাঝে মাঝে কানে আসছিল আর রিক্সার টুংটাং শব্দ !
কেন জানি বারবার মনে হচ্ছিলো
খুব উপভোগ্য হবে দিনটা আজকের ।

———— পরাণ ভাইয়ের সাক্ষাত পেলে অবশ্যই বলবো , মানুষের উপকার টুপোকার ছাড়েন ভাই গোল্লায় যাক দেশ সমাজ সেবা আর নৈতীক মূল্যবোধ টোধ দিয়ে জাতির ভাগ্য পরিবর্তণ হবেনা । এ জাতির অদৃষ্টে খুব খারাপী আছে ।

————- বেড়িয়েছিলাম সকালের মর্ণিং ওয়ার্কে । এই পৌরসভার রাস্তাগুলো প্রায় নিরব থাকে । আজকে যেন আরো বেশীমাত্রায় নিরব বলে মনে হলো ।

————– গত দিনের পুরো ঘটনাটা মনের মধ্যে মিলিয়ে দেখছিলাম । মাথার ভিতর ঘুরপাক দিচ্ছিলো ভাবতেই । কিছুতেই মেনে নিতে পারছিলামনা অথচ তখন সব কিছু নির্বিকার মেনে নিয়েই চলে এসেছি সেখান থেকে ।
এখন শুধু মনের মধ্যে আপোষহীন বিরোধ । চাপা একটা কষ্ট পিড়া দিচ্ছিলো ভিতর ভিতর ।

—————— বলেছিকিনা জানিনা ঠিক তবে খুবি সত্যি যে এই নদীটি অপরুপ সুন্দর অনেকটা রুপ কথার গল্পের মত । নদীর দুই ধার অত্যন্ত মনোরম ও মনমুগ্ধকর প্রাকৃতিক পরিবেশের আদলে ভরা ।
পূর্ব পশ্চিম উপকুল জুরে আম্রকানন পূর্ব প্রান্তে সুইলসগেট সংলগ্ন ছোট্ট একটি শিশু পার্ক তারি নিকটে শোপিং সেন্টার তারও পূর্বে মুক্তাশা সিনেমা হল ।
পুরো এরিয়াটা বলা যায় বানিজ্যিক ও আবাসিক ।

———- মানুষের কর্মব্যস্ততার মধ্যে অপরিচিত মানুষের সামান্য উপস্থিতি এখানকার মানুষের বুঝে উঠতে খুব দেরি লাগেনা ।
এমনিতেই ছোট্ট শহর তার মধ্যে নদীর উপকুল জুরে ছোট বড় আম্র কাননে কানায় কানায় ভরে ছেঁয়ে আছে ছাঁয়া ঘিরা সুন্দর্যে নদীটি ।
বসন্ত মুকুলের সমারাহে চারিদিক ঘিরেছিল মুকুলের মৌ মৌ করা সুগন্ধে সকালটা মনে হচ্ছিলো কখনো কখনো স্বপ্নের স্বপ্ন রাজ্য ।

নদীর কাছা কাছি হাটছিলাম হঠাৎ মোবাইল ফোনটা বেঁজে উঠল , পরাণ ভাইয়ের ফোন । খুব জরুরী তলব না হলে বিশেষ করে এমন সকাল সকাল ফোন করতেন না ।
Receive করেই শুনলাম ,
সিপু তুই আসতে পারবি পারলে এক্ষনি গোপালের হোটেলে একটু চলে আয়তো ।
সম্মতি জানিয়ে রওনা দিলাম কারণ গোপালের হোটেল মাত্র দুই মিনিটের পথ দৌড়ালে আরও কম সময় লাগবে ।

—————- হোটেলটা মুক্তাশা হলের সম্মূখেই নদীর কাছাকাছি থাকায় পরাণ ভাইয়ের ডাকে সহজেই সারা দিতে পারলাম ।

মাথা ফাটা কেশ । বিদেশী বহিরাগত মনে হল দেখে ।
ব্যক্তিটির বয়স ত্রিশের উপর হবে হয়তো । শার্ট রক্তে ভিজা মাথা চুয়ে তখনও রক্ত পড়ছিল ।
কথায় কথায় জানতে পারলাম বেচারা বড় আম ব্যবসায়ী । ট্রাকে করে আম নিয়ে যায় ঢাকায় নিয়মিত । তার দশ লক্ষ টাকা ট্রাভেল ব্যাগ সহ ছিনতায় কারির চক্করে পরে গাচ্চা দিয়েছে আজ । সৌভাগ্যযে এক প্রকার জানে বেঁচে গেছে বেচারা ।

—————— প্রথমত রহণপুর হেল্থ কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হল তাকে । প্রাথমিক ভাবে খরচ পাতি পরাণ ভাই সমস্ত কিছু বিয়ার করল স্বেচ্ছায় । আহত ব্যক্তির আত্মীয় স্বজনদের মোবাইল ফোনে বিস্তারিত অবগত করা হল পরবর্তীতে ।

এতো সব দায়িত্ব পালনের মধ্যে ডুবে থেকে ভুলে গেছিলাম নিজেকে । কতক্ষন আগে কি ভাবছিলাম একবারও পড়েনি মনে । গত দিনের গ্লানী ক্লান্ত করতে পারিনিকি তবে মনকে এও উপলব্ধি করলাম ?

মানুষের উপকার টুপকার করে লাভ কি , পরাণ ভাইকে বলতে চেয়েছিলাম সম্ভব হয়নি । বেচারার রক্তত্ব মুখোমন্ডল দেখে বারবার শুধু পরাণ ভাইকে উপলব্ধি করছিলাম আর ভাবছিলাম কেউ কেউ নিজেকে উৎস্বর্গ করে এক প্রকার আনন্দ বেড় করে আনে মুখে এক টুকরো মুখের হাসি দিয়ে দুঃখ কষ্ট গুলোকে কেমন তলিয়ে দেয় মনের নীলাচলে ।
একটুকরো হাসি দিয়ে বলতে শুনেছি কত হরহামেশা , ও কিছুনা সব প্রকৃতির নিয়মে চলবে । দোস দিবি কার যে যার মত চলছে চলুক এই বলে সবার মত গা ভাসিয়ে দিলে আমাদের অন্তত চলবেনা ।

——————– ডাক্তারের সাথে কথাশেষ করে পরাণ ভাই মেডিক্যালের বাইরে যেতে উদ্যত হলে তাঁর সঙ্গে যাচ্ছিলাম । যা বুঝতে পারলাম ডাক্তারের ভাষ্য মতে অনেকটা আশস্ত পরাণ ভাই ।

সিঁড়ি বেয়ে নামছিলাম এমন সময় গত দিনের সেই লিকলিকে ছেলেটি পরাণ ভাইকে সালাম দিয়ে সামনে দড়িয়ে জোড় হাত করে ক্ষমা চাইতে
লাগলো । দুটি শব্দে যেন থমকে গেলাম ।
সে যখন অকোপটে বলে উঠল , পরাণ ভাই সব অপমান ঘৃণা সহ্য করে আপনি কি ভাবে পারলেন হামার হাতে হামার বউকে তোলে দিতে কি কইরে পারলেন অতগুলো টাকা হামার মত অপদার্থের হাতে তুলে দিতে ।
ঃ তুমি এখানে এ সব বলনা । আচ্ছা তুমি দেখচ্ছো না কত মানুষ মেডিক্যালে আসা যাওয়া করছে । আচ্ছা চলো এখন এখান থেকে একটু ওদিকে যাই ।
ঃ হামাকে ক্ষমা কোরেণ পরাণ ভাই আমার স্ত্রীর সাথে আমার কুনো বিবাদ হবেনা হামাকে একেবারে ক্ষমা করে দেন ।
হাউ মাউ করে কাঁদতে লাগলো সে ।

এখনি জানতে পারলাম সেই মেয়েটির পূর্বের স্বামী এ আর জানতে পারলাম সত্যিকার অর্থে টাকাটার সৎকার হয়েছে যথার্ত । তার কথাতেই জানতে পারলাম গোপালের হোটেল সংলগ্নে একটি পান সিগ্যারেটের দোকান সে ইতিমধ্যে দিয়ে বসেছে ।

——————— নিজেরই চোখ ভিজে আসছিলো । পরাণ ভাইকে নতুন করে দেখছিলাম । মুখে সেই হাসি সেই মমত্বমাখা মায়াবী চাহনী তবু যেন চিনছিলেমনা ।ক্ষনিক আগেও যে মানুষটির সঙ্গে সঙ্গে ছিলাম এতো কাছাকাছি হঠাৎ কোথায় এতো দ্রূত
পরিবর্তন ?
দুচোখ ভিজে সব কিছু ঝাপসা হয়ে গুলিয়ে গেলো যেন মুহুর্তে !

 

Stay with us for next  PART-3

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *