পরাণ ভাই । PART- 4 Naser Kamal

পরাণ ভাই ।

PART-4

 

———————–ঃ নাসের কামাল

 

কালো
অন্ধকার রাত্রি । বেশী আরো গভীর যত হচ্ছে রাত্রি তত তীব্র ও কালচে রং এ পাহাড় ঢেলে ঠেলে জানালা উপচে চোখে আঁছড়ে আঁছড়ে পড়ছে
আঁধার ।
দীর্ঘক্ষন থেকে ভাবছিলাম এই আঁধার কি মনুষ্য জগতের অন্তর বাহির জীবনের লুকিয়ে রাখা বিবিধ আত্মকথা চিরন্তন ঢেকে রাখতে সক্ষম ?
এই হিবিজীবি সব ভাবছিলাম কেন নিজেও
জানিনা । একেবারে অবশ্রান্ত হয়ে গেলে সেদিন রাত্রি দেখেছি শত চেস্টাতেও ঘুম চোখে আসেনা তার ব্যতিক্রম আজকেও হয়নি বরাবরের মত আজকেও নির্ভর হতে হয়েছে নিজেকে অন্যকে সমাজকে নিয়ে হিবিজীবি সব বিষয়ে আকাশ পাতাল ভেবে ভেবে সমুদ্রে ডুবে ডুবে গেছি । এরই মধ্যে হঠাৎ করেই এক প্রকার চমকে গেলাম !

ভৌতিক একেবারে অবিশ্বাস্ব কান্ড যেন । কাজল টানা হরিণী চোখ জানালার সামনে চোখে চোখ পড়তেই যেন সর্বাঙ্গে বিজলী চমকালো । কারেন্টের শর্ট দেয়ার মত ভিতরটা শিহরে উঠল বিশ্বাস করতে পারছিলামনা এই শান্তনা ।
তারপরও তাঁর মুখ তাঁর চোখ তার ইত্যাদি ইত্যাদি শুধু মাত্র বুকের ওড়না ছাড়া তা বাদে সব কিছুই ঠিকঠাক ।
গোলাপী রঙা সালোয়ার কামিজ – এর আগেও অনেকবার দেখেছি পরে থাকতে তাঁকে । জানালার উচ্চতা কম বলে শান্তনার সুঠাম সুশ্রী লম্বাটে গড়নের দেহটা চোখে এসে ঢি মারলো ।

বুকের ওড়না ছাড়া এতো রাত্রে এখানে কেন কোন উদ্দেশ্যে সে এসেছে তার কারণ খুঁজে পেলামনা তবে চোখে মুখে বিপদের ছাপ ফিস ফিস মৃদু শব্দে বারংবার যা বুঝাতে চায়লো তা কানে এসে পৌছল কি পৌছলনা শধু নির্নিমেষ দেখে থাকলাম ।
– দেরি না করে একটু দরজাটা দয়া করে খুলেন সিপু ভাই ।

এই মমত্ব মায়া মাখা সেই কন্ঠ সেই মুখ চির চেনা রুপ লাবন্যে ভরা সেই সুন্দর মিষ্টি মুখটি অত অন্ধকারকে ছাপিয়ে বেড়িয়ে এলো চোখে ।
দেখে খুব অসহায় মনে হলো তাঁকে মায়াবী সুন্দর মুখে রুপের সৌন্দর্য্য ফুটেছিল আরও রুপ আরো অন্ধকার থেকেযেন সহসা ক্ষদ্র বিন্দু আলোয় আলোর মাধুর্য যেমন আরো বিস্তৃত আরও সম্প্রসারিত করে তারও বেশী তারও অফুরাণ মনে হলো প্রার্থীব আলোর থেকে ।

অতি সাধারণ নিজেস্ব দুইটি বড় বড় বেড রুম ।নিজেরই বলি কারণ কাছা কাছি নিজের রক্তের কেউ নেই বলে ভাবি এটা কখনো –
খুব ছোট থেকে ঘর দুটোর সঙ্গে বেশ পরিচিত ।কোনোটাকে ছেড়ে কোনোটাতে সম্পূর্ণরুপে থাকতে পারিণা তাই মাঝে মাঝে রুমের পরিবর্তন করে একঘেঁয়েমীপনা কাটিয়ে উঠি । কখনো নিজের মত করে সাজিয়ে গুছিয়ে নিই রুম দুটোকে ।
বর্তমানে যেটিতে থাকছি গত দুই দিন আগেই ড্রেসিংটেবিল, কম্পিউটার ডেক্স সহ ছোট্ট বুক সেল্ফ পাশের রুম থেকে এরুমে স্থান্তর করে এনেছি । এই তিনটি আসবাব প্রায় দুই মাস তিন মাস অন্তর স্থান্তর সভাবতই এক ঘেঁয়েমী হলে করে থাকি ।

এই রুমটা নদী ঘেঁষা বলে তার কদর কখনো কখনো অনাকাংশে মনে হয় নদীটার বুকে ঘুমিয়ে আছি যেন পূর্বপুরুষের হাত ধরে । নদীর বুক জুরে ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে দেখছি পূর্বপুরুষের রেখে যাওয়া জানালা খোলা হাওয়া – ঘুমিয়ে দিচ্ছে তার শিতল স্নিগ্ধ মিষ্টি আদরে ।
দুইটা মস্ত বড় বড় শাল কাঠের জানালা ও দুটা খুলে দিলে মনে হবে সমুদ্র পাড়ে আছি হাওয়া খাচ্ছি নিজ মনের মুক্ত আনন্দে ।

বাড়ীর সম্মূখ দিয়ে একটা চিপা সরু রাস্তা আছে সচারচর খুব প্রয়োজন ছাড়া নিজেও এ রাস্তায় চলিনা, এ রাস্তা দিয়ে নদীর ধারে দক্ষিনে ঘুরে একটু গেলেই দুটো জানালা । আজকে দুটো জানালায় বন্ধ ছিল উদাসীন উদভ্রান্ত চিন্তা ভাবনার জন্যই হয়তো হবে খুব সভাবত ।

আজ যেখানে যে জানালা খুলে দাঁড়িয়ে আছি ইতিপূর্বে কখনো এমনটি হয়নি এ জানালায় কখনো দাঁড়ানোর অভ্যেস নেই । এতো দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকতে গিয়ে বড় দুটো জানালা খোলায় হয়নি এ সমস্ত অপ্রাসঙ্গিকতার কারণে । আর এ কারনেই শান্তনাকে দেখতে পেলাম সহজার্থে তা না হলে ভুগান্তির শেষ ছিলনা তাঁর । কেনো না বোকার মত সেল ফোনটাও ভুলে রেখে এসছে এই সামান্য ভুলের মাশুল দিতে হতো হয়তো আজকে অনেক বড় কিছুর বিসর্জনে ।

দরজা খোলে শান্তনার ভিতরে প্রবেশ যেইমাত্র , ইলেকট্রিসিটি জ্বলে উঠলো । অন্ধকার ঘরময় আলোয় ঝলমল করে উঠল তৎক্ষনাত । তৎক্ষনাত দরজা জানালা বন্ধ করে নিজেও কতক্ষন দুচোখ রুদ্ধ অবস্থায় বড়বড় দীর্ঘশ্বাস নিলাম ।
কারণ শান্তনার শুণ্য বুকের দিকে কিছুতেই দৃষ্টি ফেরাতে চাইছিলামনা এই অবস্থায় কি করবো কি ব্যবহার করবো ভাষা বুঝে উঠতে না পেরে মুহুর্তে দৌড়ে পাশ থেকে তাঁতের একটা গামছা ছুঁড়ে দিলাম তাঁকে । লক্ষ করার মত মাথার উপর ইলেকট্রিক পাখা ছাড়তে ভুলে গেলাম ভুলে গেলাম জগৎ সংসার সাভাবিক শাবলীল ভাষা , কাল্পনীক বাস্তব অবাস্তব এবং কি পরাণ ভাইকেও ভুলে গেলাম মুহুর্তের জন্যে একেবারে ।
এই ভাবগম্ভীর পরিবেশে শান্তনার একটি কথায় শুধু কানে এসে থমকে গেলো ,
– সিপু ভাই চোখ খুলেন ।

 

Stay with us for next  PART-5

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *