পরাণ ভাই । PART- 5 Naser Kamal

পরাণ ভাই ।

PART-5

 

———————–ঃ নাসের কামাল

তখন
রাত্রি
প্রায় একটা পেরিয়ে গেছে । মোবাইল ফোনটা বেজে উঠল ভীষন চৌমকে দিয়ে । এখন হঠাৎ হঠাৎই চৌমকে যাচ্ছি চৌমকে যাওয়াটায় স্বাভাবিক ।
একবার শুধু এক পলক শান্তনাকে দেখে নিলাম ।মুখোমুখী দাঁড়িয়ে আছে । ভাবছিলাম কোনো ম্যাসেজ , ফোন কোনো বার্তা ছাড়ায় আকশ্মিক ভাবে ঘটে যাচ্ছে একের পর এক ঘটনা যা কল্পনার সব অতীত ।
এখন এতো রাতে কার ফোন কি সমস্যা শান্তনার বাড়ী থেকে নিশ্চয় কোন খবর জানতে রিং করতে পারে , না না সেটা হয়না তাঁদের পরিবারের সঙ্গে সম্পর্কের ঘনিষ্টতার ব্যাপারে একদমি সন্দহের বহির্ভূত দিক এটা সম্পূর্ণ । তাহলে কে , কার ফোন ?
এতোক্ষন শান্তনার জীবনের ঘটে যাওয়া ঘটনা সংক্ষিপ্ত হলেও শুনে জেনে গেছি এবং বুঝে গেছি পরবর্তী সব কি কি বলতে ঘটতে পারে । সবি প্রায় স্পস্ট হয়ে গেছে নিজের কাছে ।
তাঁর নরম হাত ছাড়িয়ে দ্রূত বিছানার উপর থেকে ছোঁ মেরে মোবাইল ফোন তোলে Receive করলাম । ও পাশ থেকে কথা ভেসে এলো ,
– সিপু আমি কাঞ্চন বলছি । অসমপ্ত কথার মধ্য থেকে যে একটি কথা শান্তনা এখনো বলেনি সেটায় প্রথমে উচ্চারণ করল কাঞ্চন ।
আমি শান্তনাকে তোর কাছে পাঠিয়েছি আশা করি তুই ফিরিয়ে দিবি না এ ছাড়া আমার বিকল্প কোনো উপায় ছিল না । তুই শোন মন দিয়ে এই শেষ রিকোয়েস্টটুকু তোকে রাখতে হবে শুধু চারটা দিন আত্মগোপন করে রাখ ওকে । আল্লাহর দোহায় কেউ না দেখে থাকলে তোর ওখানেই সম্ভব । চার দিনের মধ্যে ইনসআল্লাহ দেশে ফিরছি । আমার বুকে অনেক কষ্ট সিপু । শুধু একটায় কথা বলে রাখছি তোকে পরাণ ভাইকে যারা মিথ্যে মামলা দিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছে ওদের আমি ছাড়বো না ।
চোখ দুটো নিম্নভিমুখে ভিজে গেলো । ওকে কিছু একটা বলতে চাচ্ছিলাম তখনি কেটে গেলো লাইন চাইলেও বলতে পারতামনা গলার কন্ঠনালী অবস হয়ে জরিয়ে গেছিলো কখন নিজেও জানিনা চোখের জলে ঝাপসা দেখছিলাম সব ।

বুকটা ভাঙ্গছিলাম ভেঙ্গে নতুন করে ক্রংক্রিটের মত আবার গড়ছিলাম । ভেবে নিয়েছি এ জীবনে পরীক্ষার শেষ কখনো আর হবে না ।
শান্তনাকে ও পাশের বেড রুমটা দেখিয়ে দেয়া হয়েছে । কমোন বাথরুমটাও দেখানো হয়েছে ।বিশেষ করে ওর জন্যে সুবিধের হবে বাথরুমটা ও রুমের কাছে বলে । রুম থেকে বেড়িয়ে হাতের বামে দুই ধাপ গেলেই চোখ বন্ধ করে পাবে ।
কম্পিউটার ডেক্সের চেয়ারটায় বসে ভাবছিলাম শান্তনা ফ্রেশ হয়ে এলেই প্রথমেই কিছু সে একটা বলতে চায়বে তাঁর পূর্বে ভদ্রতার সৌজন্য বিস্কুটের ডিব্বাটা ধরিয়ে দিব ।
– আজ এটা দিয়েই সেরে নাও শান্তনা ।
আগামী দিনের মিশন আজ এ মুহুর্তেই স্থীর করে নিচ্ছিলাম । পিসিটা ওয়ান করে দিয়ে শান্তনাকে ছেড়ে দিব । ও ফেসবুক নিয়ে সারা দিন পড়ে থাকবে । কাঞ্চনের সঙ্গে চ্যাট করবে । গোপালের হোটেল থেকে খাদ্য সরবরাহ করবো নিজেই । কারণ কুঁচে মুরগীর মত রান্না বান্না করে বাসায় বসে থাকলে শান্তনার বাসার কোনো তথ্য সংগ্রহ হবে না । তথ্য উদ্ধারের গোপন উৎস খুঁজে বেড় করতে হবেই কোনো না কোনো উপায়ে ।
আইডিয়া গুলো খুবই কারেক্ট ছিল । কারণ শান্তনার বাসার গতিবিধি উৎঘাটোন করতে না পারলে নিজেকেই ফাঁসতে হবে বুঝে গেছি ।
আরও Good better আইডিয়া হতে পারে ভাবছিলাম কি কি ? অবশ্য এই সব দিনের প্রথম ভাগেই ফিনিস করে ফেলতে হবে কারণ বিকেলে দুটো ছাত্রের বাসায় গিয়ে ওদের পড়ানো লাগবে ।ওদের S.S.C পরীক্ষা সামনেই পাঁচ মাস বাদে । Biology তে ছাত্র দুটোই প্রচুর কাঁচা ছিল । বর্তমানে ভালো করছে আরও ভালো করতে হবে ওদের । এতো সব গুরু দায়িত্ব মন থেকে একেবারে ঝেরে ফেলতে পারছিলাম না । তার মধ্যে পরাণ ভাইয়ের ব্যাপারটা মাথার মধ্যে থেকে থেকে ঘুর পাক খাচ্ছিল । এ মুহুর্তে সব চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়েছে তাঁর পিতা মাতার স্বরণপন্য হওয়া । এ বিলম্ব অমার্জোনীয় এখনো সাক্ষাত দিইনি নিজে থেকেই এটা ভাবতে নিজেকে খুব ছোট লাগছে যেন এখন । টিউশানি শেষ করে যাবো ইন্সআল্লাহ । চাচা চাচীর সঙ্গে দেখা করে অবশেষ ধীর স্থীর ক্লিয়ার করবো অবশিষ্ট বাকি বিষয় গুলো নিশ্চিৎ ।
এই শান্তনা মেয়েটা হঠাৎই উটকো ঝামেলা একটা ঘারের উপর নিয়ে বসল এসে । কথার ধার ভার এতো বেশী জোর । মুখ খুলেনি , খুললে ঝড় বাপরে বাপ । সেদিন কাঞ্চনের সঙ্গে শেষ গেছিলাম । না । বারা – বারি হচ্ছে বোধয় । পরাণ ভাইয়ের সঙ্গে প্রথম একবার আর কাঞ্চন শেষবার আমেরিকা যাওয়ার আগে সঙ্গে করে নিয়ে গেছিলো ।
ওরা তিন বোন তিন বোনের মধ্যে শান্তনায় বড় । শান্তনার বাবা ফুড অফিসার ছিলো এখানে । এখানে থাকা অবস্থায় রিট্যায়ার্ড করার পর আর কোথাও যাননি । শান্তনার বাবা মা সম্পর্কে যতটুকু জানি আদি আবাস স্থান মালদহা জেলার গাজল থানাধীন মহেশ মাটি গ্রাম । সেখান থেকে ১৯৬৫ সালে সরাসরি নাটোর কুমার পাড়ায় স্থান্তর হয়ে আসে সেখানে মাত্র পাঁচটি বছর কাটান । সেখান থেকে পরবর্তীতে চলে যান পাবনা সুজা নগর । এখানে দীর্ঘ দশ বছর একটানা কাটান । এর পর যশোর জেলার বেজ পাড়ায় আট বছর থাকেন সর্ব শেষ রহণপুর আসার পর পর দুই বছরের মাথায় বাড়ী তৈরীর জন্য শেখ পাড়ায় তিন কাঠার একটা প্লট ক্রয় করেণ । দীর্ঘ চাকরি জীবনের কষ্টার্জিত সঞ্চিত কিছু অর্থ ব্যয়ে কিছুটা হিমশিম খেতে হয়েছিলো তাঁর পিতাকে তাই বোধয় বাড়ী নির্মানের ক্ষেত্রে বিরত ছিলো । ভাড়া বাসায় থাকেন প্রয়াত শ্রী হরিকরণ আঁচারীর আঁখড়া সংলগ্ন পাড়াটার পাশেই শান্তনাদের বসবাস । এখান থেকে দম নিয়ে এক দমে হেঁটে যাওয়া সম্ভব । পাশ্ববর্তী বলা যয় যদিও চলাচল গুনে দুইবার সেও ড্রয়িং রুম অবদিই শেষ ।

মাথার উপর ঝড়ের মত পাখা চলছিলো হঠাৎ কি মনে হল মাথা চক্কর দিয়ে ঘুরে উঠলো । শান্তনা মেয়েটা ভূতটুত নাতো ? গা ছমছম করে উঠল ।
এতোক্ষন হয়ে গেলো আসার নাম নেই । বাতরুমে এতোক্ষন মেয়েটা কি করছে । সাজুর মত মুদ্রা দোষ হলে ঘন্টা ধরে ঢুকে বসে থাকবে । নক পরিস্কার কান , আংগুলের ফাঁক । চুল , ঘার ; গলা পরিস্কার করছেনাতো তার মত ? বেহুদ্দা কি সব যা তা ভাবছি ।
উঠে ফ্যানের সুইচ বন্ধ করে শাল কাঠের বড় বড় দুটো জানালায় খোলে দিলাম । প্রচন্ড দমকা হাওয়া বাইরে বয়ছে । প্রকৃতির হাওয়ার কাছে কখনো লাগেনা কৃত্রিম এই পাখার বাতাস । যেন মুহুর্তে ঘরময় শিতল হয়ে গেলো । মনটা মুহুর্তের মধ্যে ভালো হয়ে গেলো । কি ভালো লাগছিলো এমন সময় হঠাৎ দেয়াল ঘরিতে সময় দেখলাম রাত্রি দুইটা ।
বুঝেগেছি আজ আর ঘুম হবেনা । কেন জানি পরাণ ভাইয়ের কথাটা মনে পরে গেলো । ” হাতের কলম ফেলে অস্ত্র ধরবিতো রাতারাতি হিরো বনে যাবিনা , বরং জিরো হয়ে যাবি । অস্ত্র ফেলে কলম ধরবি দেখবি সামনে পা ছুটছে মাথার হাজারর্টা বুদ্ধি খুলছে । সত্যি পরাণ ভাই ফিলোসফি নিয়ে পড়লে খুব ভালো করতো । ইতিহাস পড়ে কেউ নাকি ? নেপোলিওনকে কেউ একজন বলেছিলো ইতিহাস পড়েন ইতিহাস জানেন উনি উত্তরে বলেছিলেন , ইতিহাস আমি পড়বোনা আমি ইতিহাস সৃষ্টি করবো । ঠিক তাই হয়েছিলো ।

শান্তনার উপস্থিতিতে চৌমকে উঠি । নিজের মধ্যে ছিলামনা হারিয়ে গেচিলাম কোথাও । জানালাটার সামনে সুখের হাওয়া বয়ছিলো । বুকের মধ্যে কত কি বদলে যাচ্ছিলো মুহুর্তে মুহুর্তে । বুকটা হুহু করছিলো কেন কি কারনে কিছুতেই বুঝে উঠতে পারছিলাম না ।
এতো কিছুর কি এক সাথে মনে উত্তর মিলে , মন সব সময় নিজের সাথে আত্মগোপনে মনের সব কিছু কি খোলা মেলা খুলে খুলে সমাধানের উপাই কি বেড় করে , নিজের চোখের নীলে কত কি মুহুর্তে বদলে ফেলি । মনের মধ্যে কি তা এতো সহজ , হাতের মধ্যে মুহুর্তে কত কি ওলোট পালোট করে দিই মন কি তা পারে ? পারে । মন ইচ্ছে করলে চোখ মুখ হাত পা অঙ্গের অনেক কিছুকেই মুহুর্তের মধ্যে নাচাতে পারে যে নিত্য নিজে জানিনা সে নিত্য মন শিখাতে পারে মুহুর্তে । মনের সাত রঙের আকাশটা কত রঙের বৈচিত্রে ভরা মনও জানেনা হয়তো তাই মনের সঙ্গে মাঝে মাঝেই বিভিন্ন টানাপোড়নে বনিবনা হয়না নিজেরও ।
আজ শুধু শান্তনার চোখ মুখের দিকে চেয়ে থেকে নিজেকে যে অপরাধের দিকে সংঘঠিত করছি । তা কতোটুক সমীচিন তাকি একেবারে বুঝিনি ? কৈ মনতো তখন সাই দেয়নি , প্রথমেই প্রত্যাখান করতে পারতো মন । অনেক পরে কাঞ্চনের ফোন এলে বিষয়টুকে পরিস্কার হয়েছি ধিরে ধিরে । বন্ধুত্বের তবে কি রইলো , কাঞ্চনের জন্যে কি পুরোটা আসলে আত্মত্যাগ হলো ; মন কি তবে অন্যকিছু অন্য বিষয়ে ভাবছিলো ? হয়তো হবে ।
ঘুরতেই দেখি শান্তনা দাঁড়িয়ে ।
– তোমার কথায় ভাবছিলাম । এত রাত্রি জাগার কি প্রয়োজন , ঘুমিয়ে যাও । ভয় টয়ের গুল্লি মারো ।ওদিকে অনেক সময় নিয়েছো হুঁস নেই রাত্রি এখন কটা ভাবতে পার ?
শান্তনা তার ক্ষদ্র অনুভূতি খুব শাবলীল ভাবে তুলে ধরল দেখলাম ।
– ওদিকে সময় দিখিয়েন না সিপু ভাই আমার চোখের পাতার দিক দেখেন এ রাত আমি আরো বড় রাত চাইছি । জীবনের এই রাতে ঘুম কারোই আসার কথা না ।
– তোমাকে কি বলবো নিজেও বুঝছিনা ।
– কিছু কথা আছে এ মুহুর্তে আপনার সাথে শেয়ার না করলে বড় ক্ষতি আমারই হবে অার আমাকে পরে দোষাবেন ।
– যাই বলো না কেন এই মুহুর্তে সবে হয়তো ক্লাশ নাইনে পড়ছো ঠিক জানিনা তবে তোমার পিতা মাতার দিক ভাবতে পারতে আজকাল মেয়েরা অনেক ট্যালেন্ট সাধারণ পরিবারেও দেখছি ।
– ভাবাভাবির বিষয় পরে আমি ক্লাশ নাইন টাইনে পড়িনা কিন্তু সিপু ভাই । হাফপ্যান্ট পড়া আবস্থায় যাকে দেখেছেন অলরেডি সে এখন H.S.C
Second dear এর ছাত্রী । এখন আমি রিতিমত ইউসুফ আলী কলেজে নিয়মিত ক্লাশ করি । ভালো মন্দ বুঝতে শিখেছি ।
শান্তনা কাঁদছিলো তাঁর দুই চোখই ভিজে গেলো মুহুর্তে । এর আগে কখনো কোনো নারীর প্রতি কোনোদিন এভাবে পরখ করে দেখিনি । এই প্রথম দেখলাম নিজ পৌরষ্যে দম ধরে তাঁকে । তাঁর চোখে চোখ পড়তেই যে অনুভূতি স্পর্শ করলো ভিতরে তার কিছূটা ক্লান্তি চোখে মুখে ঠোঁটে এসে ঘিরলো । ভিতর ভিতর শুধু নিজেকে বললাম , সত্যি তাই ভীষন বড় হয়ে গেছো তুমি ।

অদূরে জানালার পশ্চিম ধারে নিম গাছটাতে হবে হয়তো একটা ভূতম প্যাঁচা ডেকে উঠলো । নিঝুম কালো অন্ধকার ঘিরে ঢেকে থাকা নদীর প্রান্তহীন উপকুলে ভেসে যেতে দেখলাম শান্তনার ভবিষ্যত জীবনটাকে । হঠাৎ করেই কেন যেন দেখলাম দেখেই নিজের কাছে খুব খারাপ লাগতে লাগলো ।
অনেক ঘটনায় বদলে ফেলে মুহুর্তের প্রেক্ষাপট সহসা । ঠিক তেমনি বদলে গেলো সব হঠাৎ করেই একটা প্রকান্ড শব্দে । চোখ দুটো স্থির ড্যাব ড্যাব করে দেখে থাকলো কৃঞ্চ কালচে মস্ত বড় একটা বিড়াল এদিকে । চৌমকে উঠি , শান্তনা এমন একটা কান্ড করে বসলো মুহুর্তে নিজেরও বল শক্তি শুণ্য থাকায় তাঁকে সামলাতে পারলাম না । তাঁকে সহ পড়ে গেলাম খাটে । তাঁর নরম বুকের স্পর্শে অজান্তেই তোলপাড় করে উঠলো ভিতর । অথচ মুহুর্তের মধ্যে নিজেই কেমন বদলে গেলাম । অশুভ আলিঙ্গনের অপরাধী সীমানা ছাড়িয়ে বেড়িয়ে আসতে সর্বময় সহয়তা করলো নিজেরই মন । শক্ত প্রতিরোধে দাঁড়িয়ে গেলো ঘুরে । একটা হিংস্র পশুর পশুত্ব দেখতে চেয়েছিলাম বলেই হয়তো অঢেল বল শক্তি পেয়ে বসলো শরীর ।
শান্তনার নারী শরীর খাটের এক পাশে শরিয়ে ফেলে উঠে দাঁড়ালাম একটা সত্যিকারের মানুষ রুপে যা দেখে নিজেও বিশ্বাস করতে নিজেকে একটু বিশ্মিত হতে হলো ।
এর পর মন যা বলল নিজেকে – যা কখনো নিজেকেও বলবোনা আর । নিজেকে সভ্যতার দাঁড়প্রান্তে নিয়ে গিয়ে শুধু শান্তনাকে শোনানোর উদ্দেশ্যেই নিচু স্বরে শোনালাম ,
– এ বাড়ীটা , অনেকে ভূতের বাড়ী বলে জানে !

 

Stay with us for next  PART-6

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *