পরাণ ভাই । PART- 9 Naser Kamal

পরাণ ভাই ।

PART-9

 

———————–ঃ নাসের কামাল

সকালের

ট্রেনে উঠে বসেছি । কুচ্চুর কথায় বারবার মনে পরছে আর মনে মনে হাসছি । ট্রেনে উঠতে প্রথমেই ধাক্কা খেয়ে শুনি ওর লুকানো মুখের ফিসফিস ,
– সিপু আমি কুচ্চু ।
– তুমি কি বলতো ! ছি-ছি-ছি —–
থানের সাদা কাপড় পড়ে নিয়েছো ?
– চিনতে পারনি যখন ! দেখো কি করি ।
এই কুচ্চু ওরই বাসর ঘরে ওর বিরুদ্ধে ওর বউকে শুনিয়েছিলো নিজেই বউ সেজে ,
– তোর ভাতার আমার ছোট বোনের সাথে খুনসুটি করছে চল দেখবি চল । একবার ওর বাপের উপর রাগ তুলার জন্য কাঙ্গালী ভোজনের মাইক নামিয়ে দিয়েছিলো গোটা রহণপুরে । প্রায় দু’শোর বেশী ফকির মিসকিন বাড়ির সামনে গিয়ে ওর বাপের গুষ্টি তুলে দিয়েছিলো গালমন্দ করে । একবার এক কানা বুড়ো কাজীকে ডানে বামে ডানে বামে বলে , নর্দমায় চালান দিয়ে দিয়েছিলো সোজা । দীর্ঘদিন পর জেনেছিলাম ও‌ই কানা কাজী কুচ্চুর বড় বোনকে বিয়ের প্রপোজ দিয়েছিলো । অতঃপর আজকে কি যে অদৃষ্টে আছে ভাবছিলাম ।
লোক জনের খুব ভীর ঠেলে উঠতে গিয়ে একজনকে দেখলাম খুব দৌড়াচ্ছে । ট্রেনে উঠার জন‍্য ভীষণ তত্‍পর । শেষ পর্যন্ত উঠে এলো । ওর , পর – পর আরো তিন জন উঠলো ওর মতই । একজন ন‍্যাংটা টোকাই ট্রেনের সোজায় দৌড়াচ্ছিলো ফিরকির মত । ট্রেন ছাড়ার পর মানুষের এইভাবে উঠে আসা মোটেই ঠিক না । ট্রেন শ্লো চলছিলো বিধায় এক্সিডেন্ট হয়নি । এরকমঃ কি , এক সময় এর চেয়েও অত্যধিক শ্লো চলতো ট্রেন । ডি আই টি রামপুরা রোডের মুড়ির টিনের মত । ঐ অভ্যেসটা এখনো মানুষ ছাড়েনি । এদিকে এক লেকচার বাজের কথা চলছিলো ভদ্রতার সহিত । দেখে খুব ভদ্র লোক ভদ্র লোক মনে হলো । ঘাড়ে একটা দামী ঝুলানো ব্যাগ । ভুমিকায় বেশ শ্রেণী মত সালাম প্রদানের পর গুছিয়ে সুন্দর খুব শাবলীল উপস্থাপন তাঁর , তাঁর বৃত্তান্তে ভীষণ প্রয়োজনবোধ করলাম । অমনযোগী মনকে একটু নিজ অনুশাসনের নিয়ন্ত্রণে নি‍য়ে মনযোগের সঙ্গে শুনছিলাম ভদ্রলোক কি বলতে চাইছেন ,
– আপনাদের আমি কেউ নই । তবুও প্রয়োজনবোধে বলতেই হচ্ছে । যাত্রা পথে কিছু সময় একটু অনুগ্রহ করে এদিকে মনযোগ দিবেন আশাকরি আপনাদের উপকারে লাগবে । দয়া করে আপনাদের পকেট , হ্যান্ড ব্যাগ আর মোবাইলটা আগে সাবধানে রাখেন । আল্লাহার কাছে সুকরিয়া আদায় করেণ যে হালে তবিয়তে বেড়িয়েছেন বাড়ি থেকে । সে হাল তবিয়তেই যেন প্রত্যেকেই ফিরতে পারি বাড়ি । গত কাল এই ভাবেই ফিরছিলাম আমি বাড়ি চাঁপাই থেকে । আমনুরায় এক ভদ্র লোকের ল্যাপটোপ বেখেয়ালে ছিলো । চলে গেছে এই আপনাদের মত এতো যাত্রির মধ্যে থেকে ল্যাপটপটা নিয়ে । নিজেরা একটু সতর্ক থাকলে পকেট মারার কোনো চান্স থাকবে না । একটু ভুল করলেই মরণ । একটু সতর্ক থাকেন । শক্ত করে ধরে রাখেন । চেক করে নিন সব ঠিক ঠাক আছে কিনা । দেখছেন এত যাত্রি ট্রেনে তার মধ্যেই দেখবেন কখন চোখে ভেল্কি লাগিয়ে কি টেনে নিয়েছে । খুব সাবধান ! আমার দিকে একটু লক্ষ করুণ । অনেক দিন আগে ডেলি স্টার পত্রিকায় একটা খবর বেরিয়ে ছিলো কেউ পড়ে থাকলে শুধু হাত তোলে জানাবেন । কামরুক্ষার জঙ্গল থেকে সংগ্রহকৃত এক গাছের শিকড় এক বৃদ্ধকে খায়ালে সে বৃদ্ধ তাঁর পূর্ণ যৌবন বয়স ফিরে পায় । এর্টা একশ পারসেন্ট সত্য ঘটনা । আর এটা ঘটে ছিলো মাত্র দুই মাসের মাথাই । বিশ্বাস করতে পারবেন না । সে বৃদ্ধর বয়স ছিল পঁছাত্তর এখন দেখলে মনে হবে ত্রিশ বছরের যুবক । আল্লাহর কসম খেয়ে বলছি আমার সমস্ত জায়গা জমি বিকরি করে ঐ লোকের উদ্দেশ্যে ভারতের আসামে গিয়ে তাঁর দেখা পেয়ে তাঁর কাছ থেকে ঐ গাছের শিকড় নগদ অর্থে কিনে নিয়ে এসেছি আমিই এক মাত্র বাংলাদেশে । তাঁর পর যাকে খাইয়েছি সেই উপকার পেয়েছে । খুব সামান্য স্টোক আছে আমার কাছে । ছোট ছোট বোতলে প্যাক করা । যার দরকার পরবে একটু এদিকে দয়া করে ইশারা করবেন । মূল্য প্রথমে এই এক বোতলেরই ছিলো দুই শত টাকা করে । এখন মাত্র এক শত টাকাই পাচ্ছেন । কত দিকে কত টাকা নষ্ট করে দিয়েছেন । বড় বড় ডাক্তার , ভেলোর ; চেন্না , মাদ্রাজ কোনো যায়গা বাকি রাখেননি । লক্ষ লক্ষ টাকা শেষ করে দিয়েছেন রোগের পিছনে কিন্ত রোগ থেকে আপনি মুক্তি পাননি । তাতে কি হয়েছে আমাকে একটি বার বিশ্বাস করে একটা ফাইল খেলেই উপকার পাবেন । কিনে খেয়ে দেখেন এক বোতল । আমার রোজ রোজ ট্রেনেই ভাত ভিক্ষা । উপকার না পেলে লজ্জা করবেন না বলবেন টাকা ফেরত দিয়ে দিব সঙ্গে সঙ্গে । লেকচার আমার কর্ম না লেকচার আমার ধর্ম না লেকচার দিয়ে আমি পেটের ভাত করি না আল্লাহর কশম করে বলছি আমার ঔষধে কাজ না হলে একটি টাকাও আমি আপনাদের কাছ থেকে নিব না ।
এই কথা বলার পর তাঁর ঔষধ বিক্রি হতে থাকলো । মাথা ধরা চুলকানি পোঁচড়ে ঘাঁ একজিমা নানান রোগের ঔষধ বিক্রি করতে থাকলো । এরই মধ্যে গাড়ীর চেকার প্রত্যেকের কাছ থেকে টিকিট চেক করছিলো । অনেকে টিকিট না কেটে উঠেছে ওদেরকে দেখলাম চেকারের হাতে যেমন খুশি টাকা গুজে দিচ্ছে চেকার মহা আনন্দে অকপটে পকেটে ভরে নিচ্ছে কোনো রিসিপ রসিদ দেখলামনা কোনো একজনকে দিলো । বুঝলাম এটা অবৈধ ইনকাম শোর্স । দেশের রেল ডিপার্টমেন্টের অধঃপতন । দীর্ঘ প্রজন্মের অনিয়ম আর দূর্শাসনের পুঁজি । এই অসত্‍ ইনকাম কত জন ব্যক্তির পকেটে যায় সাধারণ যাত্রী বুঝতে চায়না । নির্বিকার থাকে ।
এক জন মাঝ বয়সী লোক । ভদ্র ঘরের মনে হলো দেখে চেহারায় আভিজাত্যের ছাঁপ । প্রথমে সেই যাত্রিদের উদ্দেশ্য করে অত্যন্ত ভদ্র ভাষায় বললেন ,
– রিসিভ কপি চাইলে পাবেনতো । তানা হলে এ টাকাটা সম্পূর্ণ ব্যক্তি পকেটে যাবে ।
সেই যাত্রিদের ব্যপারটা পছন্দের মনে হয়নি বুঝলাম । তাই নিশ্চুপ নিরব ভুমিকা অবলম্বন করলো । এবার দেখলাম সরাসরি ধরে বসলো চেকারকেই । বেশ বলিষ্ট ভাবে বলে উঠলো ব্যক্তিটি ,
– আপনি এই ভাবে রসিদ ছাড়া টাকা নিচ্ছেন এ আপনি অপরাধ করছেন
– ভুলে গেছি আজকে নিতে ।
– অবৈধ ভাবে নিচ্ছেন এটা এই ভাবে নিতে পারেন না । আপনার এখানে কে আছে , ডাকেন আপনার উদ্ধতনকে ।
মুহুর্তের মধ্যে গরম হয়ে গেলো ট্রেনের বগীর পরিবেশ । চেকারকে সেই যাত্রিরাও এক পর্যায়ে ছেঁড়ে দিতে অনুরোধ জানালো ভদ্রলোককে । ব্যক্তিটি নাছোর বান্দা উল্টো ধরে বসলো সেই যাত্রিদের ,
– মানলাম বিপদে পরে আপনারা ট্রেনে উঠে পড়েছেন । এই কারণে নিজেদের অপরাধী ভাবছেন কেন ? চোরের মত উনাকে টাকা দিচ্ছেন কেন ? এটা জাতির জন্য দেশের জন্য কত বড় ক্ষতি । এই ক্ষতি আপনারা ইচ্ছে করে করছেন ।
ওদের মধ্য থেকে একজন চিৎকার করে উঠলো ,
– ফারদার আপনি জ্ঞান দিবেন না । আমরা টিকিট কাটি না কাটি – সেটা দেখবার , বলবার কে আপনি ?
এই কথা শেষ হবার সঙ্গে সঙ্গে অগ্নি মুর্তির মত লোকটা জ্বলে উঠলো । মুখের দিকে দেখলাম রক্ত বর্ণ হয়ে গেলো মুহুর্তে, দিয়ে বলল ,
– ঠিক আছে টিকিট না কেটে কি ভাবে যান সেটায় দেখছি ।
এ সময় চেকারকে দেখলাম খুব বিনয়ের সঙ্গে ভদ্রলোককে শান্তনা দিলো ,
– আমনুরায় ট্রেন থামলে আমি ওদের টিকিট দিয়ে দিচ্ছি ।
– অবশ্যই দিবেন ।
– ঠিক আছে ঠিক আছে । আপনি টেনশান নিবেন না ।
লক্ষ করলাম ট্রেনের সামনে পিছনের যাত্রিরা প্রত্যেকেই দাঁড়িয়ে দেখছে সেই দৃশ্য । তাঁদের চোখে মুখে কৌতুহলের শেষ নেই । তাঁরা শেষ পর্যন্ত কি হয় উপভোগ করতে চাইলো ।
ওদের মধ্যে একজন নিচু কন্ঠে বলল ,
– ভাই আপনার বাড়ী কোথায় ?
– ভোলাহাট ।
– ভোলাহাটে এখন খুব মাডার হচ্ছে ভাই
এক সময় খুব শান্ত ছিলো ।
– জি ঠিক বলেছেন । সেটা সৈয়দ মুঞ্জুর হোসেনের সময় ।
সুস্থ স্বাভাবিক হয়ে গেল বগীর পরিবেশ । অনেকই নিজ নিজ সিটে বসতে লাগলো । যেভাবে আগুন জ্বলে উঠেছিলো ঠিক সেভাবেই দপ করে নিভেও গেলো । জানালার দিকে ছিলাম বসে একটু নড়েচড়ে দেখলাম বাইরের দৃশ্য । মাঠের পর মাঠ ভরা সবুজ ধান ক্ষেত কখনো গমের শিস কখনো গ্রাম্য বাড়ী ঘর – সবুজ গাছ পালা দ্রূত সরে সরে যাচ্ছে চোখ থেকে । আর ভাবছিলাম পরাণ ভাইয়ের সঙ্গে এই ভদ্র মানুষের দারুণ একটা চরিত্রের মহত্তম মিল রয়েছে । পরাণ ভাইকে নিশ্চয় চিনবেন এই ভদ্র লোক নাম বললে । অযথা বলে বিরক্ত করতে চাইলাম না ওকে । একদিনের খুব পুরনো অতীত স্মৃতি হঠাৎ ভেসে উঠলো এই অদ্ভূত মানুষটাকে দেখে ।
কত সুন্দর করে সাজানো সেই মহেন্দ্র ক্ষনের স্বপ্ন গুলো । আপন হাতে হাতে গুছিয়ে সাজিয়ে যেই মহত্তম ব্যক্তিরা গঠন করতে চেয়েছিল । কত মনের মিল বন্ধনে মনের আত্মত্যাগে গড়ে উঠেছিল স্বপ্নের অতো গুলো একত্রে সহ আত্মিক বৈভব । সেই বৈভব স্বপ্নের হাতে হাত মিলিয়ে কাঁধে কাঁধ – মনে মন মিলিয়ে সহমত প্রসন করেছিলো একদিন যারা । তাঁদের মধ্যে অনেকই আজ নেই । সঙ্গত কারনেই তাঁরা তাদের কর্ম ব্যস্ততায় জীবিকার উদ্দেশ্যে ছুটতে হয়েছে বিভিন্ন কর্ম ক্ষেত্রে দেশে বিদেশে । কেউ মারা গেছে কেউ অর্থাভাবে নির্জীব নিজ গৃহে কোনো ভাবে একটু আশ্রয়ে শত বির্ম্বনা নিয়ে বেঁচে আছে মাত্র ।
এদের খোঁজ খবর রাখার মত এই সমাজে কম মানুষই আছে ।
যারা খোঁজ খবর রাখে তাঁরা এ সমাজের রাজনৈতিক মাথা । সমাজকে যারা বেশী চুষে খায় তাঁরায় মূলত এই সমাজের অসহায় মানুষ গুলোকে খুঁজে বেড় করে রিলিফের চাল গম দিয়ে তুষ্ট করে রাখে ।
কিন্ত রাখে না এতো অনিয়মের খবর । রাখে না রেল ডিপার্টমেন্টের কোটি কোটি টাকা সামান্য অনিয়মের জন্যে মাসুল দিতে হচ্ছে দেশকে জাতিকে । তার খেসারত টানতে হচ্ছে বড় অংকের ক্ষতি স্বীকার করে । অথচ সরকারের সামান্য নির্দেশনা পেলে স্থানীয় প্রশাসন তথা এমপি , ডিসি ; ই ,ও ,নো , মেয়র ; চেয়ারম্যান সহ সংশ্লিষ্ট সরাকারের সকলে একটু কঠোর হস্তে ব্যবস্থা গ্রহণ করলে হয়তো থাকতো না এমন অনিয়ম । দেশ ও জাতির ক্ষতি সাধন করে ভর্তুকি দিতে হতো না আর কোনো সরকারকে । বরং রেলের অর্থ দিয়ে দশটা যমুনা – পদ্মা সেতু নির্মাণ করার সর্বময় ক্ষমতা অর্জন করে নিতে পারতো সে যে কোন সরকার অনেক আগেই । কুচ্চুকে দেখে ভিতরটা ধুকপুক ধুকপুক করতে লাগলো । কুচ্চু দেখেনি এদিকে । ওকে দেখলাম দাঁড়িয়ে আছে বগীর মাথার দিকে । মনে পরে গেলো ওর বাপের উপর রাগ তুলতে একবার হাবুয়ার দোকান থেকে ফিউজ বাল্ব দশটা বাসায় লাগিয়ে এক রাত্রের মধ্যেই নগদ টাকা হাতিয়ে নিয়েছিলো । সে অনেক অতীত দিনের কথা একবার বাড়ীর সমস্ত গরু ছাগল ঘিরে নিয়ে দূরের এক স্কুল ঘরে আটক রেখে খোয়ার দিবার নাম করে মোটা অংকের টাকা ওর বাপের কাছ থেকে তুলে নি‍য়েছিলো । আজকে ওকে দেখে সুবিধে মনে হচ্ছে না । কি ঘটায় কে জানে । যাক সে সব । ভাবছিলাম যা –
এই মহাণ কাজটি করতে কারো বিপত্তি কোথায় বুঝি না । এই অবুজ অন্ধত্বের অপতাপে পুরো জাতিকে পুড়িয়ে মারছে । এ দেশের অর্থনীতির উপর অসঙ্গতিপূর্ণ অসৎ চাপ গিয়ে বৃহতাকারে ধস নামাচ্ছে দেশেরই কোষাগার থেকে কোটি কোটি টাকা । এতো কিছুর পরও বোধোদয় হয়না কেন , তাঁদের বিবেকে বাধে না কেন বুঝি না । বিভিন্ন খাতে ভর্তুকি দিতে এ দেশ অভ্যস্থ কেন , এতোটুকু কুন্ঠিত না কেন তাঁরা বুঝি না । পরাণ ভাইয়ের এরকম ইচ্ছে কখনো ছিলো না নেতা হবে । নেতৃত্য দিবে । রিলিফ এর চাল গমের মত কোন কিছুর বিনিময়ে জনসমর্থন গড়ে তুলবে । এরকমঃ মনবিত্তি থাকলে যে কোনো সময় তাঁর প্রকাশ ভঙ্গিতে বুঝতে পারতাম । এরকমঃ চিন্তা পরাণ ভাই এর মাথাতে থাকলে কত আগেই এমপি মুন্ত্রী হয়ে যেত পারতো পরাণ ভাই ।
ট্রেনের হুঁইসেল বেজে উঠলো হঠাত্‍ দূর থেকে ।
এক জন যাত্রী এই ষ্টেশনে নামবে বোধয় । ট্রেন থামা মাত্র নেমে গেলো ভিড় ঠেলে ।মুখও মুখী বসেছিলো এক সুন্দরী স্কার্ট পড়ে । পাশের ভদ্রলোক তাঁর পিতা হবে নিশ্চয় । বার বার লক্ষ করছে তাঁর মেয়ের প্রতি কেউ কু নজর দিচ্ছে কিনা । দুইটা ছেলে সত‍্যিই মাঝে মাঝে ডিস্টার্ব দিচ্ছিলো মেয়েটিকে অনেকক্ষন থেকে । মেয়েটিকে দুই বার নিজেই দেখলাম একজন চোখ টিপলো । মেয়েটির মিষ্টি অমলিন হাসিও দেখলাম বেশ ঠোঁট বাঁকানো । ট্রেন ছেড়ে গেলো গোলা বাড়ি ষ্টেশন থেকে । আবারও পরাণ ভাইকে নিয়ে ভাবতে থাকলাম । তাঁর জীবনের বহু বৈচিত্রে ডুবে গেলাম আবার ।
চুয়াল্লিশ দুই আসনের মধ্যে ভোলাহাট থানাকে নিয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা হয় সেখানে অসংখ্য মানুষের সাড়া । তাঁরা যে বিষয়ে পরিস্কার করে বলতে চায় নিঃসার্থে কেন সমাজের জন্য এতো বিসর্জন দিবে পরাণ নিজেকে । দাতা হাতেম তা পুণরায় জন্ম নিলেও তো পরাণের মত এরকম দানশীল বদ্ধ পাগল হয়ে যেত না । তোমরা ওকে বুঝাও । প্রয়োজবোধে ভোলাহাটের সার্থে আমরা ওকে আগামীতে নব প্রার্থী রুপে দেখতে চাই । চেয়ারে বসলে এলাকার উন্নয়ন করতে পারবে । সমাজটা রাতারাতি বদলে দিতে পারবে । কে কি করতে পারবে কার দ্বারা কি সম্ভব আমরা জানি ।
এই দাবী গুলো উপস্থাপন করতো যারা তাঁরা শুধু মাত্র সাধারণ মানুষ নয় । খুব সাধারণ মানুষের বাইরেও স্কুল কলেজের মাস্টার প্রফেসর সহ ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার সুশীল সমাজের আপামর সকল সুধী জন মিলে এ রকম প্রস্তাব উত্থাপন করে তুলে ধরতো মাঝে মাঝেই পরাণ ভাইয়ের নিকট ।
এই ভোলাহাটকে নিয়ে ভোলাহাট বাসী এখন খুব আতঙ্কে আছে । চরকা কাটা পোলুর ব্যবসা বাংলাদেশের মধ্যে এক মাত্র ভোলাহাটকেই ধরি উন্নতম । চরকা কাটা মেশিন ভোলাহাটের প্রতি ঘরে ঘরে । যেন প্রতি ঘরে ঘরে ক্ষুদ্র কুটির শিল্পে ছেঁয়ে গেছিলো অনেকের অনেক কষ্টে মেহনোতে । এই শিল্প দীর্ঘ দিনের রক্ত ঘামের অর্জিত সাধনার – পূর্ব পূরুষের রেখে যাওয়া ফসল । তাঁদের দোয়া আর আর্শীবাদে মহা খুশি আনন্দে সুখ স্বাচ্ছন্দে জীবন কাটতো বেশ । সেখানে সেই ব্যবসা এখন বিলুপ্তর পথে প্রায় । ভোলাহাট চাঁপাই নবাবগঞ্জের মধ্যে সব চেয়ে বেশী আমের ফলনের দিক দিয়ে উন্নত । চাঁপাই নবাবগঞ্জের মধ্যে ভোলাহাটকে বলা হয় আমের সাম্রাজ্য । বড় বড় আম বাগানের ছায়ায় গ্রামের ঘরগুলো যেন সর্ব সুন্দর আর শান্তির শীতাতপ নিয়ন্ত্রনের প্রাকৃতিক সবুজে ঢাকা । ভোলহাটের রাস্তা গুলো এঁকে বেঁকে আম বাগানের ভিতর দিয়ে ভোলাটবাসীর বাড়ী ঘরে গিয়ে যেন ঢুকে গেছে । কি অপরুপ সুন্দর্যে প্রকৃতির অনুদানে গড়েছিলো ভোলাহাটকে । এতো মনরম আর মনমুগ্ধকর পাঁকা রাস্তা ঘাট মনে মনে বলেছি কত , এই রুপ এই রকম সৌন্দর্যের এলাকা সারা বাংলাদেশের কোথাও নেই । ঠিক সে সময় কুচ্চু পাশে এসে গা ঘেঁষে বসলো ঠেলেঠুলে । একজন চমকে ভূত দেখার মত উঠে গেলো । অনেকক্ষন থেকে পায়ের উপর পা তুলে অভদ্রের মত পা নাচ্চাছিলো ব্যক্তিটা । চিমঠি কাটলো গুদ্দা উঠে গেলো মনে হলো পাছার । বদটা যাইচ্ছা তা করবে সহ‍্য করে মুখ বুজে থাকতে হবে আজ । চোখে পানি চলে এলো । বদটা আজকাল এমন সব কান্ড করে বসছে রহণপুরের মান ইজ্জত শেষ করে ফেলবে । কদিন আগে ইন্ডিয়া থেকে মাথায় করে একটা একুশ ইঞ্চি টেলিভিশন নিয়ে কোর্টটাই পরেই হেঁটে চলে এসছে ।
শিবগঞ্জের এক জুতার দোকানে এক পাট জুতা তুলে আরাকটি দোকান থেকে আরাক পাট তুলে বাবুর মত এখনো ঘুরছে । কি বলবো ট্রেনের মধ্যে একদিন ওকে আর পকেটকে – তিনজন চাঁপাই নবাবগঞ্জয়ের উদীয়মান মাস্তান পিস্তল ধরে বলেছিলো ,
কি আছে বাইর কর । কুচ্চু শুধু পকেটের দিকে চোখ ঘুরিয়ে বলেছিলো,
– পকেট ! গত বছর ঢাকা গুলিস্তানে যা ঘটিয়েছিলি দেতো ঘটিয়ে বেটা । মস্তানদের হাতের পিস্তল আপোষে কুচ্চুকে তুলে দিয়ে বলেছিলো ,
– গুলিস্তানে কি ঘটিয়েছিলেন বড় ভাই ?
– হাত জোর আর কান ধরে উঠ বস করেছিলাম দশবার রে বেটা । এই কুচ্চু বর্তমান প্রধান মন্ত্রী সেখ হাসিনার কাছে গিয়ে পিস্তল এ‍্যাডভোকের ছেলে পরিচয় দিয়ে পাঁচ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছিলো , তাঁর পি এস কে কেমন করে হাত করে সরাসরি সেখ হাসিনাকে বলেছিলো গিয়ে ,
– মা আমার ট্রাভেল ব‍্যাগ সহ সব কিছু ছিন্তাইকারি নিয়ে গেছে । প্রধান মুন্ত্রী শুধু বলেছিলো একটু ইতস্তত করে ,
– পিস্তলের এতো বড় ছেলে
হয়ে গেছে ?
– আমি আব্বুর প্রথম পক্ষের মা । চোখ ভিজে গেলো কুচ্চুকে দেখে । ভাবছিলাম আল্লাহ কুচ্চুর হাত থেকে কি করে রক্ষা করবে এই হতভাগাকে !
আবারও ভাবতে লাগলাম ।
এই ভোলাহাটকে মনের মত করে সাজিয়ে ছিল যে সুন্দর মনের অধিকারী যার অম্লান অবদান – মানুষের প্রাণ প্রিয় পাঁচ পাঁচবার নির্বাচিত প্রাক্তন প্রয়াত মাননীয় এমপি জনাব , সৈয়দ মুঞ্জুর হোসেন । তাঁর অমূল্য অবদান কোনদিন ভোলাহাট বাসী ভুলবে না । সৈয়দ মুঞ্জুর হোসেন মারা যাবার পর সেখানে নতুন করে কেউ আর তাঁর মত স্থান করতে পারিনি । তাঁর মত করে কেউ ভাবতেও পারিনি ভালো কিছু তেমন । তাঁর অভাবে সেখানকার মানুষের এখন হাহাকার আর কান্নার আর্তনাদের শোকে ভরে আছে সেখানকার অজস্র মানুষের মন ।
গত বছর আমের যথাযথ মূল্য না পাওয়ায় । ভোলাহাট বাসীর মানষীক অবস্থা ভাষায় প্রকাশ করার মত নয় । ওরা চির দিন জীবিকার জন্য সংগ্রাম করেছে । দেশ ও জাতির উত্তরণের জন্য জীবন যুদ্ধে লিপ্ত থেকেছে । শান্তিপ্রিয় ভাবে এবং সুস্থ ধারায় পূর্ব পুরুষ ধরে একই নিয়ম শৃঙ্খলা বজায় রেখে যে যার মত রাজনীতি করে আসছে । কারো সাথে মারামারি – কাটাকাটি – হানাহানি করতে কখনো তাঁরা নিজেদের মধ্যে কাউকে আশ্রয় প্রশ্রয় দেননি । তাঁদের মিতালী সম্পর্ক সব সময় বজায় থেকেছে একে অপরের সাথে । ওদের মধ্যে এমন একটি ঐক্য রয়েছিলো যা সহজে ভাঙ্গবার নয় । এ সম্পর্ক এখন ভাঙ্গছে । ক্ষুদ্র কুটির শিল্প ভাঙ্গছে । আমের মন্দা বাজার । ওদের অর্থনীতি ভেঙ্গে চুরে চুরমার হতে চলেছে । ওদের ভ্রাতৃত্বের চিরবন্ধনে চিড় ধরছে । রাজনৈতীক সংঘাতে জরিয়ে যাচ্ছে নিজেরাই দিন দিন নিজ নিজ ঘরে ঘরে । নিজেদের সংস্কৃতি ওরা বুকে আগলে ধরে আর রক্ষা করতে পারছে না । ক্ষিপ্ত ওরা এ দেশের কাছে চিৎকার করে তাঁদের শিল্প ফিরে চাই । ওরা চরকা কাটবে রোজ । ওরা আমের ন্যায্য মূল্য ফিরে চায় । ওরা ওদের স্বপক্ষের দাবী গুলোর জন্য সংগ্রাম করবে । ওরা দেশের জন্য বিনিময়ে প্রান দিবে । এতো দিন ওরা নিশ্চুপ ছিলো । ওরা পরিবর্তন চায় । ওরা ভালো সৎ ন্যায় নিষ্ঠাবান বলিষ্ঠ নেতৃত্য চাই । ওরা ওদের পুণঃ ভ্রাতৃত্ব ফিরে চায় । পরাণ ভাই ওদের এই সংগ্রামকে সমর্থন করেছিলো বলে পুঁজিপতি কিছু বর্জুয়ার কাছে ইর্ষানিত হতে হয়েছিলো তাঁকে । অনেক বিষয়ের কারণেই মূলত প্রস্তাব গুলো বিভিন্ন প্রসঙ্গ ক্রমে চলে আসতো ।
একই ভাবে প্রস্তাবের পর প্রস্তাব আসতেই থাকতো পরাণ ভাই কারো প্রস্তাব কর্ণপাত করতো না । নিজেরাও অনেক বুঝিয়ে বলেছি সাথে সাথেই অগ্রায্য করে উড়িয়ে দিতো সেই সমস্ত প্রস্তাবকে । এতোসব কেন হিবি জিবি ভাবছি নিজেও বুঝছি না । এরই মধ্যে
হঠাত্‍ দেখি সেই ভদ্রলোক চমকে উঠে দাঁড়িয়ে গেলো । বাংকারে উঠে এক বারভাজা বিক্রেতা বসে পিয়াজ কাটছিলো । তাঁর কাছ থেকে পানি চুয়ে চুয়ে ভদ্রলোকের মাথায় পরলে – নতুন ঘটনার সূত্রপাতের উপলক্ষ্য মনে হল দেখে । কারণ ছেলে দু’টো ওই বিক্রেতাকে মারবার মারমুখী উপক্রম এমন অবস্থায় । তাদের হাতের একটি পলিথিন ব‍্যাগ মেয়েটিকে ধরতে দিয়ে বিক্রেতাকে নামালো বাংকার থেকে একপ্রকার জোর করে । ভদ্রলোকের যথেষ্ট আপত্তি থাকা সত্ত্বেও তারা সেটা মানলো না । ট্রেন থামলো নাচোল ষ্টেশনে বেশ শব্দ করে ওই মুহুর্তে । বাইরে হৈচৈ শুনা গেলো যাত্রীদের উঠা নামার । বিক্রেতা মেয়েলী স্বভাবের মনে হলো একটু । সে নাকি কান্না কেঁদে যাবার সময় যা ছিলো মুখে উগলে দিয়ে গেলো । কি জঘন্য বর্ণহীন মা বোন তুলে – ছি ছি ছি ! কি অসভ্যতা ভাবাই যাইনা । ছেলে দু’জনেই চুপসে গেলো । দু’জনেরই মলিন মুখের দিকে দেখছিলো মেয়েটি । এর মধ্যেই আসল ঘটনাটা ঘটলো । মেয়েটির অনিচ্ছায় বলা যায় হাত থেকে পরে গেলো পলিথিন ব‍্যাগটি নিচে । মনার দোকানের বাংলা মদ মাতিয়ে দিলো যেন মুহুর্তে পুরো বগীকে । কে একজন খুব মুখ খারাপ করে গালি দিলো ,
– সোমন্দির ব‍্যাটা সালা একেবারে মনার মদবে । মরনুতো । একজন যাত্রী সঙ্গে সঙ্গে বলে উঠলো ,
– যা দেখছি সরকার পলিথিন তোলতে পারিনি এখনো । দাঁড়া অবস্থায় একজন যাত্রী বলল ,
– তাকি একদিনে পারে ভাই ?
আরাক জন বলল,
– ট্রেনের ন‍্য‍ায‍্য টাকা তুলছে না । আর পলিথিন তুলবে । আরাকজন বলে উঠলো নাক বন্ধ করে ,
– থাকায় যায়না বিকট গন্ধ । এই ভাই আপনারা এদিকে কি সব যাতা খামাখা উল্টা পাল্টা বকছেন । ছেলে দুটো পালিয়ে গেলো ধরতে পারলেও একটা কাজের কাজ করতেন ।
– এই ভাই আপনিই তো ধরতে পরতেন আপনার পাশ দিয়েই তো গেলো ।
অনেকের সঙ্গেই অসঙ্গতিপূর্ণ সাঙ্ঘাতিক গন্ডগোল বেঁধে গেলো মুহুর্তে । দলাদলি হয়ে গেলো যাত্রীদের মধ্যে ।
দারুণ ইউনিটি দেখলাম । প্রত্যেকেই রুখে দাঁড়িয়ে গেলো দুই ভাগে ।
কি আশ্চর্য টগবগে এই মানুষগুলোই একটু আগে নির্বিকার নিশ্চুপ ছিলো । মূলপ্রধান বিষয়ে এই হচ্ছে বাঙ্গালীর প্রকৃত দায়িত্ব জ্ঞান । নিজেও দেখছিলাম শেষ পর্যন্ত কি হয় ? এই সময় দেখলাম একজন বয়স্ক লোক এক মাঝ বয়সী ব্যক্তিকে ধরে তোলে আনছে শক্ত করে ।
মাঝ বয়সীর একটা পা নেই । ওদের জায়গা করে দিলো ভোলাহাটের সেই ভদ্রলোক । অল্প বয়সের দু’টো যাত্রীকে অনুরোধ জানিয়ে সরে বসতে বলল । ওরা বসলো একটু ঠাশাঠাশি করে । বয়স্ক যাত্রীকে জিগেস করলো এক যাত্রী
হঠাত্‍ করে ,
– পা নতুন কাটা মনে হচ্ছে বাপজান ?
– আর বলেন না । বাংলাদেশর ডাক্তারদের কান্ড জ্ঞান ।
– কেন ?
– নতুন নতুন অভিজ্ঞতা নিয়ে যাচ্ছি ক দিন বাদই তো ঠুস করে মরে যাবো ।
ট্রেনের কলহল মুখর সরগরম থেমে গেছে প্রত্যেকেই শুনছিলো কান খাড়া করে বয়স্কর কথা ।
– আমার ছেলের জর দেখাতে গেলাম ডাক্তারকে ঘটা করে । জর দেখাতে গিয়ে বড় রোগটা ধরা পরলো । পা টা কাটার পর আসল ব্যপারটা জানতে পালাম ।
আমার ছেলের পা টা ঠিকই ছিলো বাবা । আসলে ডাক্তারের দু’টো চোখেই ছিলো কম জোরি । দিয়ে দিয়েছে
ফাঁসিয়ে ।
– এই তো একদম আমার বউয়ের কেশ !
– আপনার বউ এর এই রকম পা
কেটে ফেলেছেন ?
– না পা কাটেনি । একটা চোখে ট‍্যারা দেখছে এখনো । আরাকটু হলে চোখটাই উপরে ফেলতে হতো ।
মেয়েটি মুখ টিপে হাসলো । নিজেরও হাসি পাচ্ছিলো একটু । ভোলাহাটের ভদ্র ব্যক্তি বলল শুধু ,
– এই হচ্ছে দিনকাল ।
ট্রেন চলতে লাগলো মন্থর গতিতে । ইলামিত্রের নাচোল ষ্টেশন ছেড়ে চলে যেতে লাগলো ট্রেনটা । সামনে নেজামপুর ষ্টেশন তার পর আমনুরা তার পরই চাঁপাই নবাবঞ্জ । আবারও ঘুরে ঘুরে আসতে লাগলো পরাণ ভাইয়ের জীবন সম্পর্কের কথা । আর কুচ্চুর চিমঠি খেতে থাকলাম দাত চেপে মুখ বুজে মাঝে মাঝে ।
নাচোল থানার মানুষ এক বাক্যে পরাণ ভাইকে চাই । চাইতো । তাঁদের প্রানের দাবি । এ দাবী কখনো থামেনি । দলে দলে ঝাকে ঝাকে মানুষের ঢল দেখেছি । কি আশ্চর্য এতো কিছুর পরও পরাণ ভাইয়ের মতের পরিবর্তনের রুপ কখনো বদলাতে দেখিনি । অপরিবর্তীত মানুষটাকে দিনের পর দিন দেখে দেখে অভ্যস্ত হয়ে গেছিলাম তাই নিজেরাও আর সে বিষয়ে তাঁকে নিয়ে পূণরায় ইচ্ছে করে একি বিষয় নিয়ে ঘাটতাম না । নাচোল বরাবরি সংগ্রামী জনবহুল এলাকা ছিল । নাচোলের ইলামিত্র তেভাগা আন্দোলন করে নাচোলকে তৎকালেই লড়াকু আর সংগ্রামী করে তোলে ছিল । নাচোলের মানুষ জেল সুল ফাঁসির ভয়ে কখনো ঘরে নির্জীব বসে থাকেনি । যখনি অন্যায় অবিচার অত্যাচার হতে দেখেছে সঙ্গে সঙ্গে রুখে দাঁড়িয়েছে । ফুঁসে উঠেছে তাঁদের দল বল শক্তি নিয়ে । ওদের মনের জোর আছে ওরা সংগ্রামী ওরা সব সময় ঐক্যে বিশ্বাসী । নাচোলের ইতিহাস ইলামিত্র । নাচোলকে নতুন করে আর কাউকে চেনানো লাগবে না । নাচোলের রাস্তা ঘাট অত্যন্ত উন্নত । সৈয়দ মুঞ্জুর হোসেনের অবদানের কথা বড় মায়ার বাঁধনে তাঁরা হ্নদয়ে অন্তরে স্বর্ণাক্ষরে লিখে রেখেছে । তেমন নাচোলের ব্যপক উত্তরণের সঙ্গে নিজেকে উৎস্বর্গ করে রেখে ছিলো প্রতিনিয়ত মেধা শ্রম আর নিবীড় ভালোবাসায় এমপি সৈয়দ মুঞ্জুর হোসেন নিবেদিত ভাবে নিজেকে ।
এ সব কিছুর ব্যবধান খুঁজতে গিয়ে দেখেছি গোমস্তাপুর থানার শুধু মাত্র রহণপুর থেকে রাধানগর পারবর্তীপুর আড্ডা ও রহপুর থেকে সোনাইচোন্ডি হাট পর্যন্ত ব্যপক উন্নয়ন করে গেছেন উনি । স্কুল কলেজ মসজিদ মাদ্রাসার অবকাঠামোর পরিবর্তনে তাঁর অগ্রণী ভূমিকা ছিলো সব আগে । সর্বক্ষেত্রে উন্নয়নের জোয়ার ছিলো দৃষ্টি কাড়ার মত । পরের দিকে আলিনগর বাঙ্গাবাড়ী বেজনাথপুরের রাস্তা ঘাট পাঁকা করেন । সেই সঙ্গে এই তিন থানার বিশেষ করে বড় বড় সড়ক গুলো উনি সমাপ্ত করে যান । মহা মূল্যবান চৌডালা ও মকরমপুর , বড় বড় দুটো ব্রিজ স্থাপন করে অবশেষ এই সমাপ্ত কাজের সুফল সারা বাংলাদেশের সমস্ত যোগাযোগ বংবস্থাকে গতিময় করে তুলেছেন । এই গুনে গুনান্নিত ছিল বলেই তাঁর সরকার পজিশানে অপজিশানে যখন যেভাবে থাকতো , থাকলেও বারবার উনিই নির্বাচিত হয়ে প্রমান করেছেন তাঁর জনপ্রিয়তাকে । উনার নির্বাচনির প্রাককালে প্রায় বলতেন একটি কথা ,
– আমার ভোলাহাট নাচোলকে নিয়ে কোনো চিন্তা নেই । চিন্তা শুধু গোমস্তাপুরকে নিয়ে । ভোলাহাট নাচোল আমার ভোট ব্যাংক । গোমস্তাপুরের মধ্যে এই রহণপুরে বসেই তিন থানাকে পরিচালনা করেছি । এই থানায় নেতা বেশী । বহু মতের মানুষ । প্রত্যেকটা ক্ষেত্রে মতবিরোধ । একাকটা পন্ডিতের এখানে রাজত্ব । এই মাটিতে নবাব সিরাজুদ্দৌলার মূল হত‍্যাকারী মুহাম্মাদী বেগের বসবাস ছিলো । বলেই এই মাটির মানুষ গুলো একে অপরের বিরুদ্ধে বড় স্বচ্চার । এই বহু মাত্রিক বুদ্ধিজীবিদের এক ছাতার নিচে করতে দুর্ভোগে পরেছি বহুবার । তবে জিতার সম্ভবনা নিশ্চিত করতে এখানেই পরে থাকতে হয়েছে আমাকে বারবার । এ সব ভাবছিলাম এমন সময় ট্রেনের হুইসেল বাজলো বিকট শব্দ করে ।
ট্রেন চলছিলো । এবার হেলে দুলে গিয়ে থামলো আমনুরা জংশোন ষ্টেশনে । যে গ্রুপটা বেশী ফট ফট করছিলো সে গ্রুপের প্রত্যেকেই এখানে নেমে গেলো । যাক আপদ গেছে । আনসোশাল সব । এ দেশের এ প্রজন্মের এ জাতির উপহার এরা ।
ভোলাহাটের ভদ্র লোকটাকে দেখছিলাম শ্রদ্ধায় খুব মন ভরে গেলো । সামনা সামনি স্কার্ট পড়া যে মেয়েটি বসেছিলো তাঁর বাবার পাশেই বসে ছিলো । এক সময় নিজের অজান্তেই বলে বসলাম ,
– ভোলাহাট বজ্রাট্যাক নদীর পাড়টা খুব মনে আছে । মস্ত বড় একটা বট গাছ আছে ওই নদীর পাড়ে ?
– আপনি অনেক আগের কথা বলছেন ভাই তাহলে ? এখন ওই সমস্ত
গাছ নেই সেখানে ।
– জি । পঁচিশ বছর আগের কথা । নদী সাঁতরে ওই পাড়ে ইন্ডিয়া গেছি । ইন্ডিয়ার মাটি ছুঁয়ে আসতাম ।
– ওখানেই বাসা আমার । কেউ আছে ওখানে আপনার ? — বলতেই
আত্মীয়ের নাম বললাম বলার সঙ্গে সঙ্গে চিনতে পারলো । দীর্ঘ আলাপচারীতায় জানলাম ভদ্রলোক পরাণ ভাইকে দেখার উদ্দেশ্যেই বেড়িয়েছে । জেলখানায় সাক্ষাৎ দিয়ে বাসায় ফিরবে তা ব্যতিত আর কোথাও যাবার প্রোগ্রাম নেই তাঁর । এমন দুর্বোধ্য ভালোবাসা আর প্রেম মিশে থাকে মানুষের নিরালে । দু চোখ সেভাবে মেলে না ধরলে ঠিক জানা যায় না । দেখা যায় না মানুষের অনবদ্য সৃজনশীলতাকে । শোনা মাত্র নিজের মধ্যে ছিলাম না । প্রাণ ভরে শ্বাস নিলাম । ভিতর ভিতর পরাণ ভাইকে নিয়ে অসম্ভব গর্ববোধ করে বসলাম । পরাণ ভাই আপনি কত মহান কত উদার মুক্ত মনা । কখনো দূর থেকে আপনাকে দেখা হয়নি কখনো অচেনা লোকের মধ্যে ঢুকে আপনাকে চিনে দেখেনি বিচার করে দেখিনি কখনো । অথচ কতবার দেখেছি । কত দিন রোদ বৃষ্টিতে পাশাপাশি এক সাথে চলেছি । কত প্রকারের খাবার ভাগা ভাগি করে এক সাথে পাশে বসে খেয়েছি । এতো সব কি ভুলা যায় পরাণ ভাই ? চিৎকার করে কাঁদতাম । একাই একা একটি ঘর পেলে সত্যি প্রাণ খুলে কাঁদতাম । আজ বড় আনন্দের দিন মহা খুশির দিন বিজয়ের দিন পরাণ ভাই ।
নেজামপুর ষ্টেশনটা ভূতুরে মনে হয় । সেখানে ট্রেন কখনো দীর্ঘক্ষণ থামেনা তাই কখন ছেড়ে এসেছি বুঝেই পাইনি ।
ট্রেনের হুঁইসেল শুনতে পেলাম গগন ফাটানো কান ঝালাপালা করে দিল হুঁইসেলে ।
চাঁপাই নবাবগঞ্জ প্লাটফর্মে – ট্রেন থেকে নামছি এমন সময় দেখলাম রঞ্জুকে দূরে কয়েকজন বখ্যাটা ছেলের সঙ্গে কথা বলতে । অনুমান করলাম উদ্দেশ্য খারাপ মনে হলো দেখে । নিজেকে একটু আড়াল করে নিলাম । ওরা কি করে কোথায় যায় ওদের গতিবিধি সব এখন থেকে লক্ষ করতে হবে । ভোলাহাটের সেই শ্রদ্ধেয় ভাইকে কোন অনুমান না করতে দিয়ে অত্যন্ত সম্মানের সঙ্গে সালাম দিয়ে বিদায় নিলাম তাঁর থেকে ।
তার পর থেকে এক যোগে রঞ্জুদেরকে চোখে চোখে রাখলাম । লক্ষ করলাম খুব সাবধান ও সতর্কতার সঙ্গে । ওরা কার যেন একটা ফোনে পেয়ে মুহুর্তের মধ্যে চঞ্চল হয়ে উঠলো । দ্রূত হাঁটতে লাগলো ওরা ।
ওদের মধ্য থেকে একজনকে নিয়ে রঞ্জু রিক্সায় উঠে দেখলাম – কোর্ট এর পথ ছেড়ে ভিন্ন পথে গেলো । শেষ পর্যন্ত ওকে ধাওয়া করলাম । হঠাৎ মাথায় বুদ্ধি খেলে গেলো । ফরিদ এ্যাডভকেটকে রিং দিলাম সঙ্গে সঙ্গে ।
ফরিদ এ্যাডভকেট যা জানালো মাথায় নষ্ট । চাঁপাই থেকে পরাণ ভাইকে যাবিন করা কোন মতে সম্ভব না । এখানে সব বড় বড় উচ্চ মহল মিলে সবাইকে জিম্মি করে রেখেছে । এবং কি বিচারক পর্যন্ত জিম্মি ওই সব ক্ষমতার কাছে । বাংলাদেশের সর্বচ্চ ক্ষমতাধর ব্যক্তিরা মূলত মাথা ঘামাচ্ছে , মাথা কিনে নিয়েছে এ ব্যাপারটায় । ওই সব উচ্চ মহলের নাম এ মুহুর্তে মুখে নেয়া যাবে না ভয়ে । রঞ্জু সম্পর্কে খুব বাজে ধারণা দিলো । এবং পরিশেষে যা বলল তা হচ্ছে দুজনের সাক্ষাৎ উকিল বারে না হওয়াটায় কাম্য । যতটা লোক চোক্ষুর আড়ালে সেভ থাকা যায় তত উত্তম । মোবাইলেই ঠিক করে নিলাম সাক্ষাতের স্থান । নিজেকে বিস্তারিত খুলে বলতে হলো না নিজে থেকেই তাঁর বিশ্বস্ত একজনকে পাঠিয়ে দিলো এই হতো ভাগার জন্যে ।
রঞ্জু সম্পর্কে বিস্তারিত খুটি নাটি তথ্যপাথ্য উদ্ধার করে ফেললাম দুজন মিলে ।
ফরিদ এ্যাডভকেট যাকে পাঠিয়েছেন তাঁকে চিনি ইয়াং বাবু । অত্যন্ত চালাক ও দক্ষ মহরী । মহরী হিসেবে তাঁর যথেষ্ট কদর বিভিন্ন মক্কেলের কাছে । বিশেষ করে ফরিদ এ্যাডভকেটকে প্রচন্ড সমিহ করে চলেন বলে তাঁকেও মক্কেল মহল অত‍্যন্ত কদর ও মূল্য দেন ।
অনেক উপকার হলো তাঁর আগমনে । কার কার সাথে রঞ্জু যোগাযোগ ঘটালো পূর্ণ তথ্য পেয়ে বসলাম খুব সহজে । এই কারনে ফরিদ এ্যাডভকেটকে মনে মনে অসংখ্যবার শুধু ধন্যবাদ দিলাম মন থেকে ।
বেলা বারার সঙ্গে সঙ্গে দায়িত্ব বাড়তে লাগলো । সব কিছু নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শেষ করে যথাযত ফিরে যেতে পারলে রহণপুরে গিয়ে আরও অন্যান্য কাজ করা সম্ভব হবে । শান্তনার সঙ্গে কাঞ্চনের পরে কোন যোগাযোগ ঘটলোকিনা সে খবরও এখনো জানা হয়নি । ভাবছিলাম রিং দিবোকিনা কিন্ত ইয়াং বাবুর সামনে দিলাম না ইচ্ছে করেই । যে রিক্সায় চড়ে যাচ্ছিলাম ঠহাৎ সে রিক্সার চাকা ফুটুস করে ফেটে শব্দ করলো । বুকের ভিতরে আগের সেই টিকটিকিটা নড়েচড়ে কমর দুলিয়ে দৌড় মারলো মনে হলো । বাধ্য নামতে হলো রিক্সা থেকে । দুজনায় হাঁটছিলাম ইয়াং বাবু বলে উঠলো ,
– চাঁপাইয়ে চিন্তা করবেন না ভাই । যতক্ষন আমরা আছি কোন ব্যাটা আপনার গায়ে হাত দিতে পারবে না । এখানে ফরিদ এ্যাডভকেটের এক দম নিজেস্ব একটা বাহিনি আছে । ওরা শুনতে পেলেই হলো কিচ্ছু দেখবে না সামনে পিছনে ।
– বাবু ভাই এই মুহুর্তে এ সবে কাউকে জরাতে সুজোগ দিবেন না । ওদের মাথাতে এ সমস্ত খবর দেয়ায় ঠিক হবে না ।
– মাথা খারাপ হয়েছে আপনার । কখন কি করতে হবে ফরিদ এ্যাডভকেট আপনাকে চিন্তায় করতে দিবে না এ সবের । দেখেন কি করে ?
– ঠিক বলেছেন । ফরিদ ভাই মানুষটা সত্যি অন্যরকম । দেখলেই ভালো লাগে । আর দেখতেও কি হ্যান্ডসাম ভাবাই যাইনা ভাই ।
– ফর্সা ধবধবে উকিল বারে ভাইয়ের দিকে তো সবাই ভাই ,পাগলের মত দেখে থাকে ।
– খুব সৎ আর উদার মনের মানুষ ।
– কি বলেন । অনেক সময় উকিলের চার্জ ছেড়ে বাড়ী যেতে রাস্তা খরচ দিয়ে দিতে দেখেছি কত দিন কত মক্কেলকে । কত মক্কলের কাছ থেকে টাকা নেয়নি জামিন করে দিয়েছে ।
ইয়াং বাবুর কথা গুলো শুনছিলাম আর মনের ভিতর জোর পাচ্ছিলাম প্রচন্ড রকম । ভাবছিলাম চাচার কথার সঙ্গে হুবুহু মিল আছে ইয়াং বাবুর ।
– সিপু ভাই । চিন্তা করবেন না । পরাণ ভাই সর্ট টাইমের মধ্যে ছাড়া পাবে ভাবতেই পারবেন না কি করে এ সব সম্ভব হলো ।
ম্যাজিকের মত লাগছিলো শুনে । বুকের ভিতর বড় হয়ে যাচ্ছিলো শুনে । চোখে মুখে নিজের মনেই হাসি ফুটে কাঁন্না পাচ্ছিলো ভিতর ভিতর । আবার আশ্চর্যও হচ্ছিলাম একটু । ফরিদ এ্যাডভকেট বরং অন্য কিছু বলল ফোনে । ইয়াং বাবুর কথার সঙ্গে পার্থক্য আছে যথেষ্ঠ । হয়তো মোবাইলে ফরিদ এ্যাডভকেট গোপন কিছু প্রকাশ করতে চায়ছেন না এ মুহুর্তে । তাও হতে পারে । তাই যদি হয় খোদা তবে সব
চেয়ে উত্তম ।
– কাউকে বলবেন না ভাই । ঢাকা হাইকোর্ট আমাদের যাওয়া লাগবে না । ফরিদ এ্যাডভকেট সবার কাছে প্রচার করেছেন পরাণ ভাইকে হাইকোর্ট থেকে ছাড়িয়ে আনছি । রঞ্জুকেও একই ভাবে বলা হয়েছে । রঞ্জুকে প্রথম দেখেই সন্দেহ হয়েছিলো আমাদের । আর ফরিদ ভাই এসব ব্যপারে কাউকে পাত্তাই দিবে না । তবে এখন থেকে যা বুঝতে পারলাম আপনাকে ওরা টারগেটে রেখেছে । পারলে এখন থেকে আপনি সাবধানে থাকবেন ।
বুকের মধ্যে প্রচন্ড আঘাত পেলাম মনে হলো । কারণ নিজেও দেখলাম রঞ্জুর অসাভাবিক বিচরণ । এবং এক বিল্ডিং এর চিপা থেকে সামান‍্য হাইটের প্রাচীর । সেই প্রাচীর এর নিচে ছোট্ট একটা ছিদ্র দিয়ে দেখছিলাম রনজু একটু জোরে প্রসাব চালালেই মুখে এসে পরতো । মনের মধ্যে মনে হলো কুকুরটা এখনো দাঁড়িয়ে প্রসাব করে ! রঞ্জুর মুখের কথা নিজেই স্পষ্ট শুনেছি সিপু সিপু উচ্চারণ করে বলছিলো ,
– আমার মোবাইলে সিপুর ছবি আছে চিনিয়ে দিব ।
কুকুরটা সিগ‍্যারেটের শেষ দমটা মেরে ফিল্টারের আগুনটা এই হতভাগার মাথায় মেরেছে ছুঁড়ে । একটু হলে চুল সহ গুদ্দা তুলে দিতো ।
পরে রঞ্জু যে প্রভাবশালীর বাসায় গেছিলো সে বাসার ভিতরে দূরে চলে যাবার কারনে অবশিষ্ট কথা গুলো বাকি থেকে গেছে শুনতে । সঙ্গে সঙ্গে ইয়াং বাবু বলে উঠলো ,
– আপনার ব্যপারে ওরা টের পেয়েছে । চলেন সরে যাই এখান থেকে ।
তখন এতোটা ঘাবড়ে যাইনি শুনে তবে এখন নার্ভাস লাগছে । ভাবলাম পরাণ ভাইয়ের সঙ্গে দেখা করে সমস্তকিছু বিস্তারিত ভাবে মন খুলে বলবো । উনি যেমন যেটা পরমর্শ দিবেন কেবল সেটায় বাস্তবায়ন করবো । এই সাহস নিয়ে এখনও ভালো লাগে কেউ একজন আছে পাশে । বন্দি আছে তার পরও সাহস পাই মনে জোর পাই পরাণ ভাইয়ের জন্য ।
পোটাপ করা হয়েছে জজ কোর্টে । সবাই জানে হাইকোর্টের জন্য প্রস্ততিগ্রহণ চলছে । কিন্ত এখান থেকেই মাডার সহ অপহরণ কেশে যাবিন পেয়ে বেড়িয়ে আসবে পরাণ ভাই । এই শেষ কথা ইয়াং বাবুর মুখে শুনে উৎফুল্য হয়ে উঠলাম প্রচন্ড রকম । দু চোখ সত্যি ভিজে গেলো শুনে । সম্পূর্ণ নিজেকে ইয়াং বাবুর কাছ থেকে আড়াল করে চোখ দুটো মুছলাম সঙ্গে সঙ্গে ।
কাজ শেষে ফরিদ এ‍্যাডভকেটের কথা মত ইয়াং বাবুকে ছেড়ে দিয়েছি ।
বেলা প্রায় একটা হবে বড় ইন্দ্রা মোড়ে ফরিদ এ্যাডভকেটের সঙ্গে সাক্ষাৎ এর জন্য অধীর আগ্রহে প্রতীক্ষায় ছিলাম । রাস্তায় দাঁড়িয়ে ছিলাম হঠাত্‍ করেই চমকে গেলাম গিফ্ফারিকে দেখে । প্রায় দীর্ঘ এক যুগ পর দেখা । সেই প্রথমে বলে উঠলো ,
– কি খবর দোস্ত বিশ্বাসই করতে পরছি না তোমাকে এখানে দেখবো ।
এক চিনা বাদাম বিক্রেতা পাশ দিয়ে যাচ্ছিলো । সঙ্গে সঙ্গে একশ বাদাম অডার দিয়ে কিনলো গাফ্ফারি ।
– গাফ্ফারি তুমি আগের মতই আছো একটুও বদলাওনি ।
– শুনো , এখনি এমারজেন্সী একটা কল করতে হবে আমাকে । আসো আমার সাথে এই এখানেই ।
– তোমার মোবাইল নাই ?
– না । আজকেই হারালাম ।
– এই নাও । এটা থেকে কল লাগাও ।
– না । বিদেশ কল । চার্জ উঠবে । চল ।
নিকটেই মোজাইক করা গ্লাস ঘিরা বেশ চমত্‍কার একটি ছোট্ট ছিমছাম রুমে গিয়ে ঢুকলাম । একটাই এসি লাগানো ভিতরে কার্পেট বিছানো মোজাইকের উপর । গাফ্ফারি দেদারসে চিনা বাদাম খাচ্ছে আর তার খোসা ছড়িয়ে দিচ্ছ কার্পেটে । চোখ মুখ আন্ধার হয়ে গেলো দেখে । ব‍্যাপারটা কত বিছরি ওর কান্ড দেখে কাঁদবো না হাসবো বুঝছিলামনা । বাদামের খোসা জমা হয়ে গেলো বেশ । ভিতরে দোকানের মালিক সহ আর দুই জন বসেছিলো আগে থেকে । মালিকের মুখের দিকে দেখে বুঝলাম মালিক এমন কিছু একটা বলবে গাফ্ফারিকে গাফ্ফারি মুতে দিবে । বাকি দুজনের মধ্যে একজন বলেই বসল তার আগেই ,
– এই ভাই আপনি কাজটা ঠিক করছেন না ।
– কি কাজ ?
– নেকা । এইযে বাদামের খোসা ফেলছেন কার্পেটে এটা কোন ভদ্রলোকের বাচ্চা করে ভাই ।
– ফোন করবো ফোনটা দেন ।
এইবার মালিক বলল ,
– না । আপনি যানতো যানতো । আপনার সাথে ব্যবসা করবো না যান আপনি ।
– বেড়িয়ে আসলাম । দেখলাম গাফ্ফারির আগের সেই কুচে রাগ প্রাণ খুলে দেখালো । বলল ,
– সিপু মরতেও পারছি না সালা কাউকে মারেও পারছি না । তোমাকেই বলছি দেশের অবস্থা খুব খারাপ । তোমাকে এ মুহুর্তে ছাড়তেও পারছি না – আর ওদিকে আবার লোক বসিয়ে রেখে এসেছি । শুনো এই গাফ্ফারিকে একদিন হারিকেল লাগিয়ে খুজবে সবাই । না হয় শুনবা জেলে পোঁচছি । দুইবার জেলে গেছি জানো তো । এবারেই শেষ । বেঁচে থাকলে অবশ্যই শুনবা কি ঘটিয়েছি । থাকো দোস্ত । যাবার আগে একটা সিগ‍্যারেট ধরালো উলটো ফিল্টার পুড়ে ধুয়া হয়ে উড়ে গেলো উর্ধ্বমুখী । মাইরে বাপ বাপরে মাই বলে উঠলো গাফ্ফারি । গালমন্দ অনেক জানে গাফ্ফারি । আজ একটা গালিও দিলো না চলে গেলো হণহণ করে ।
এর পর ফরিদ এ‍্যাডভকেটের জন‍্য বেশীক্ষণ অপেক্ষা করতে হলোনা । তাঁর আগমনের পরই দুজনে ঠিক করলাম কি করা যায় সব কিছু ।
ফরিদ এ‍্যাডভকেটের এক নির্ধারিত স্থানে এক সাথে দুপুরের লান্চ সেরে খুব সামান্য গুরুত্বপূর্ণ কিছু আলাপ নিজেদের মধ্যে নিচু স্বরে শেষ করে উঠে গেলাম । শেষ করে দুজনেই একত্রে এক যোগে এক অটো ভ্যানে চেপে যাত্রা দিলাম সরা সরি জেলখানায় । অনেকের আত্মিয় স্বজন পরিবার মিলে দেখতে এসেছে তাঁদের বন্দিদের । তার মধ্যে খুব বেশি অংশে পরাণ ভাইয়ের ভক্তরায় মূলত ভীড় করে আছে জেলখানার সম্মুখের আয়তন জুড়ে । অনেক প্রিয়জনকে দেখলাম তাঁর জন্য আনেক রকমের খাদ্য সামগ্রী ক্রয় করে নিয়ে এসেছে ভাবতেই পারিনি এমন দৃশ্য চোখের সামনে দেখতে পাবো । তিনটা মাইক্রো দেখলাম দাঁড় করানো পরে জানতে পারলাম পরাণ ভাইকে দেখার উদ্দেশ্যেই কিছু বয়সকো ভা আই পি পারসোন নাচোল ভোলাহট থেকে এসেছে । ওদেরই মূলত ভাড়া করা মাইক্রো তিনটা । ফরিদ এ্যাডভকেট অত্যন্ত বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে সব কিছু টেকাপ করলো দেখলাম । আগেই সিদ্ধান্ত হয়ে ছিলো বিধায় জেলার সুপারের পারমিশন করিয়ে নিয়েছিলো মোবাইলে কাউকে দিয়ে । এবং গেট পাশ এসপেসাল অডার করিয়ে নিয়েছিলো যেন আসামীর সঙ্গে বসে আরাম করে কথা বলা যায় দীর্ঘ সময় । জানলাম ভি আই পি সম্মানে ভিতরে পরাণ ভাইকে রাখা হয়েছে । সার্জন অডার করিয়ে মেডিক্যালের সর্বময় সুযোগ সুবিধে পাইয়ে দিয়েছে তাঁকে । এই সব কিছুর পিছনেই বড় অবদান বলতে গেলে সম্পূর্ণ ফরিদ এ্যাডভকেটর ।
পরাণ ভাইয়ের সঙ্গে দীর্ঘ সময় ব্যাপি বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হতে থাকলো । নিরবে শুধু মুখ বুজে শুনেছিলাম । যা দু একটা কথা বলেছেন ফরিদ এ্যাডভকেটই আর প্রায় বলতে থেকেছেন পরাণ ভাই । তাঁর পরিকল্পনার দিক বিদিকে হন্নে হয়ে ছুঁটে বেড়িয়েছেন উম্মাদের মত । কখনো ধীর স্থির ভাবে বুঝিয়ে বিভিন্ন মুহুর্তের বর্ণনা দিয়ে বিভিন্ন প্রসঙ্গ তুলে ধরে অত‍্যন্ত যুক্তিবাদীর মত নির্দেশ আর নির্দেশনা দিয়ে গেছেন । এবং তাৎপর্যপূর্ণ ব‍্যক্ষা সহকারে বিভিন্ন বিষয়ে একত্রে যখন ধীর স্থির হয়ে ভীষণ দৃঢ়তায় বলছিলেন শুনে আশ্চর্য হয়ে গেলাম অধীর অস্থির মানুষটা কি রকম মুহুর্তের মধ্যে বদলে গেলো । এই হতভাগাকে যখন চোখ তুলে বিনয়ের সঙ্গে বলল ,
– মিটিং এর সব রকম ব্যবস্থা গ্রহণ সিপু তোকেয় করতে হবে । অপলক চেয়ে থেকে শুধু শুনছিলাম ।
– যাদের নাম দিবো দেখা করিস ওদের সাথে । তোকে ওরা চিনবে আমার নাম বললে । ছাড়া পেয়ে আমি প্রথমে মিটিংটায় একটা বিষয়ে পুরো ধারনায় সম্পূর্ণ রুপে সবার বদলে দিব । পরিস্কার করে দিব শুধু শিক্ষায় জাতির মেরুদন্ড না বিকোশিত শিক্ষায় হচ্ছে জাতির মেরুদন্ড । তোর শিক্ষা নিয়ে তুই বাসায় বসে থাকবি , তোর নিজের – পরিবার , সমাজ ; দেশ তথা জাতির কোনো কাজে লাগবি না তাহলে তোর শিক্ষার মূল্য কি বল , একেই কি সেই শিক্ষা বলে ? অনেক স্ব-শিক্ষিতকে দেখেছি প্রশিক্ষিত না বলে ঝরে গেছে মূল শিক্ষা নিয়ে অকালে । আর ওরায় ভিত্তিহীন দাবী করে বসে আছে একটা বৃহত্‍ শিক্ষিত বেকার জন গোষ্ঠী হিসেবে । ওরা সেটাই মনে করে এবং তাঁদের বেকারত্বের সুবিবেচনা করে কোন ভাবে কোন কর্ম সংস্থানের সুব্যবস্থা করে দিচ্ছে না বলে দেশ ব্যাপি সরকারের ভাবমুর্তী ক্ষুন্য করার জন্য তৈরী হয়ে উঠছে আমাদেরই এ সমাজের নিরব একটা বিম্রবনাময় বৃহত্তর জনগোষ্ঠি । এই শিক্ষিত কর্মহীন অপ্রশিক্ষিত জন্য গোষ্ঠীর জন্য সরকারই বা কি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বল ? শিক্ষার জন্য তাই আমাদের প্রথমে প্রাইমারি লেবেলে পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে । কারণ প্রকৃত যে কোনো শিক্ষা গ্রহনের সিঁড়ি প্রাইমারি লেবেল থেকেই শুরু । সেই শুরুর সিঁড়িটাকে আমরা যদি শুরু থেকে সুন্দর ভাবে গেঁথে মজবুত করে তুলতে পারি । নিরুৎসাহিত মানুষেরা নতুন করে দৃষ্টি ফিরে পাবে । এটা ভাবতে যেমন ভালো লাগে তেমন অন‍্যদের ভাবাতে পারলে আরও বেশী ভালো লাগবে । তোর আমার সকলের আন্তরিক প্রচেস্টায় যদি শহরটা শিক্ষিত শহর হয়ে যায় বল কেমন লাগবে সবার ? সে জন্য চেস্টা করতে হবে প্রচুর টেস্টা । এই ক্ষেত্রে সকলের চেস্টাটায় প্রধান । খোালা চোখে যা দেখেনা তা একবার দেখে যদি চিনতে পারে সম্পদ মূল্যহীন বিকশিত শিক্ষায় মহত্তম । এই জন্য তুই সরকারের মুখ চেয়ে নির্জীব বসে থাকবি এ কি সম্ভব বল , তোকে তো সরকার হাতে তুলে দিবেনা কাজ । পেটে পুরে দিবেনা কোন বিদ‍্যা ? সে জন্য প্রাইমারী স্কুল হচ্ছে আমাদের জাতির জন্যে একটা বড় দূর্গ । এই দূর্গ আমাদেরকে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রে নিতে হবে সিপু । সামাজিক আন্দলোন গড়ে তুলতে হবে সেই দূর্গের জন্যে । দেখবি এই রহণপুর বাংলাদেশের মধ্যে একটা চমৎকার মডেল শিক্ষা শহর নামে পরিচিত হয়ে গেছে । এবং সারা পৃথিবী ব্যাপি ছড়িয়ে গেছে রহণপুরের নাম । এই মিটিংটা সফল করতে পারলে সিপু । দেখি তোকে নিয়ে তখন মরণপুর রওনা দিবো । আর মনে হয় মটেই দেরি করা চলবে না আমাদের । আমাদের দেরি হয়ে গেছে এমনিতেই অনেক । আমাদের এখন ফাস্ট এক্সপেডিশন হচ্ছে মরণপুর । ইনোফর্ম পড়ে একজন জামাদারকে দেখলাম কথা সংক্ষিপ্ত করার জন্য একটা সিগনাল দিয়ে গেলো হাতের ইসারায় ।
ভিতরে এসে প্রথম যখন পরাণ ভাইকে দেখি সত্যি নিজের মনের মধ্যে মনে
হচ্ছিলো এক মহা মানবকে দেখলাম । তাঁর অমলিন মুখের দিক দেখে ভুলে গেলাম ভিতরের যত কষ্ট বেদনাকে । ফরিদ এ্যাডভকেটকে শুরুতে যা কিছু বলতে শুনলাম তাতে যা পরিস্কার বুঝলাম সর্বময় ক্ষমতা তাঁর উপর অর্পণ করে দিয়েছেন পরাণ ভাই ।
ফরিদ এ্যাডভকেটকে দেখলাম এক সময় বলে উঠলো তাঁর অগাধ বিশ্বাস নিয়ে ,
– ভাই চিন্তা করবেন না । আগামী আঠার তারিখের মধ্যেই ইনশাল্লাহ কাজ হয়ে যাবে আমাদের । এ এডিয়েম ভাই সত্যি অন্যরকম মানুষ । কারো কাছ থেকে এক টাকা ঘুষ নিবে না । দিতেই পারবেন না টাকা ওকে জোর করে । কাজ করলে এমনিতেই করে দিবে আপনাকে । আমার সাথে বসে কথা হয়েছে ভাই । এই কেশ সম্পর্কে বলতেই পূর্ণ সম্মতি জানিয়ে দিয়েছেন উনি ,
– যান কেশ রেডি করেন ।
ফরিদ এ্যাডভকেট দম নিয়ে আরও একটি কথা বলল , অত্যন্ত খ্যাতি সম্পূর্ণ প্রয়াত মুনি উকিলের ছেলে বর্তমান সদ্য ব্যারিষ্টারী পাশ করে এসেছেন । তাঁকে সহ আরও তিন জন উকিল সেদিন আমরা নিচ্ছি । আমি সহ এক সঙ্গে মুভ করছি সেদিন পাঁচ ছয় জন উকিল একযোগে । বিশ্বাস করেণ ভাই সে দিন কোটের চিত্রই বদলে দিব । জানেন না ওরা আমাকে ঠ্রেট পর্যন্ত করেছে । গোটা উকিল বারে ডিক্লারেসান দিয়ে বেড়িয়েছে কোন মতে আপনি পাঁচ বছর ছাড়া পাচ্ছেন না । আমি বলছি ভাই । নিশ্চিৎ থাকেন আল্লাহর কোন গজব না থাকে তো ওই দিনই আপনাকে নিতে আসছি আমরা ।
অবশেষে পরাণ ভাই এই হতভাগাকে শান্তনা মূলক যে কটা মূল্যবান কথা বলল নিমগ্ন হয়ে শুনলাম ,
– সিপু প্রশাসনের বিরুদ্ধে আমার এই ব্যাপারটা নিয়ে কাউকে মন্দ আলোচনাতে আশ্রয় প্রশ্রয় দিবি না কখনো । বিরোধীরা প্রশাসনকে যে অর্থে ব্যবহার করছে সে অর্থে আমি কখনো দেখি না । একটা কথা মনে রাখবি প্রশাসন জন সার্থেই নিজেদেরকে আত্মনিবেদন করে রাখেন সব সময় । ঘর সংসার আত্মীয় স্বজন সবকিছু ত্যাগ করে নিজেদের বিসর্জন দিয়ে তাঁরা দেশের জন্যই ছুটে বেড়ায় । অবিরাম রোদ বৃষ্টি মাথায় নিয়ে পিছন ফিরে দেখবার অবসর নেই তাঁদের । মনে করবি ওদেরও পিছনে বন্ধুকের নল ধরে আছে কেউ । এবং সরকারের পিছনেও মনে করবি কোনো মহা শক্তি কামান লাগিয়ে রেখেছে । এ দেশ এ জাতি দেখেছে , আমরা দেখেছি ; তুই দেখেছিস সেদিনের 1 / 11 তার জ্বলন্ত স্বাক্ষী । নিরব থাক । দেখ ঔপনিবেশিক আগ্রাসন কাকে বলে । মিটিংয়ে এবার আমি বিস্তারিত বলবো সিপু । বিগত দিনের মিটিংয়ে যারা ছিলো তাদের সবাইকে আহ্বান করবি । নতুন প্রজন্মের অনেককেই এইবার এই মিটিংয়ে আহ্বান করতে হবে তোকে । বিশেষ করে ব্যাপক আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে । ওদের মধ্যেই বিষয় গুলো নিয়ে আলোচনা পর্যালোচা করে চুড়ান্ত সিদ্ধান্তে উপনীত হতে হবে আমাদের ।
বাড়ী ফিরে আসছি । অন্ধকারে দাঁড়িয়ে আছি বাস থেকে নেমে ঘুঘু ডিমা পার হয়ে একটা ফাকা রাস্তার উপর । বাসটা হঠাত্‍ নষ্ট হওয়ায় কন্ট্যাক্টার বলে উঠলো হঠাত্‍ ,
– আধা ঘন্টা আপনারা ধৈর্য ধরে বসেন একটু । দেখেন কেমন বাসকে ঝাকানাকা করে তুলি ।
কন্ট্যাক্টারের কথা শুনে ভিতর ভিতর ফিক করে হাসলাম । একজনকে দেখলাম বেশ শব্দ করে হাসলো । কয়েক জন নামলো বাস থেকে । নিজেও নামলাম । বাস থেকে নেমে একটু অদূরে দাঁড়িয়ে ভাবছিলাম পরাণ ভাই কত বড় মাপের ব্যক্তি । কত তাঁর বিশালতা । কত তাঁর জনপ্রিয়তা ভাবাই যায়না ।
ভাবছিলাম তিন থানার নামের তালিকা নিয়ে । কি ভাবে সবার সঙ্গে সাক্ষাৎ করা যায় এবং ফরিদ এ‍্যাডভকেটের দেয়া কিছু কাজের দায়িত্ব নিয়ে ভীষণ ভাবনায় চিন্তায় পড়ে গেলাম । কুচ্চু কখন নিজেকে আড়াল করে সরে পরেছে টেরই দেয়নি । ভাগ‍্যিস চোখের সামনে ঘটায়নি কোনকিছু । ওদিকে শান্তনা গৃহ বন্দী হয়ে আছে । সব কিছু মিলে মিশে মনে হচ্ছিলো এক্ষুনি ডানা মেলে সপ্তম আকাশে উড়ে যাই ।
যে জায়গায় দাঁড়িয়ে ছিলাম গা ঘিনঘিন করে উঠলো । একটা লাল কেন্না মনে হলো দৌড়িয়ে গেলো গলার কাছ দিয়ে । মনে হলো রনজু কুকুরটা এখানেও মুতু করে পালিয়েছে । তাই সেখান থেকে সরে যাচ্ছিলাম এমন সময়
হঠাত্‍ সামনে দেখলাম চার পাঁচ জনকে অন্ধকার ঠেলে এদিকে আসতে । কাছে আসার সঙ্গে সঙ্গে একজন গলা চেপে ধরলো । তারপর এলোপাথাড়ি কিলঘুসি খেলাম । চিত্‍কার চেচামেচি করলাম প্রাণপণ তবু কি একটা মাথায় জোরেশোরে চোট পরলো তার পর আর স্বরণে নেই । সবকিছু স্মৃতির বাইরে তখন । কোনোকিছুই মনে করতে পারছিলাম না – যখন জ্ঞান ফিরলো তখন বাসের মধ্যে দেখলাম অনেক কটা বিড়াল চোখ এই হতভাগার দিকে হতবাক হয়ে দেখে আছে ——

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *