মানব চরিত্র – Naser Kamal

মানব চরিত্র
        — নাসের কামাল

অবাঞ্ছিত বৃক্ষ মূল ,
মানব কুলে এক বৃহত্তম দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করে গেছে , যাচ্ছে ; যাবে । যা শিক্ষা গ্রহণের জন্য যথেষ্ট । অনিয়ম আর অনিয়ন্ত্রনে বেড়ে উঠা কোনো বৃক্ষের থাকেনা যেমন নিজেদের স্বাভাবিক ভারসাম্য তেমনি থাকেনা পার্শ্ববর্তী সহ বৃক্ষের ভালো মন্দ ক্ষয়ক্ষতির প্রতি কারো কোনো নিয়ন্ত্রন । যেমন কোচরি পানা পুকুরের পানি দখল কোরে করে বেহাল অবস্থার সৃষ্টি । যেমন রাস্তা ঘাট ব্রিজ কালভেট যথারীতি সংরক্ষণ না হলে স্বাভাবিক জীবন যাত্রার মান বিঘ্নিত হয় । সামাজিক জীবনে তেমন পরিস্থিতি বা অবস্থার সৃষ্টি হলে পাড়া প্রতিবেশী আত্মীয়স্বজন পিতা মাতা স্বামী স্রী ছেলে মেয়ের সঙ্গে সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবার সম্ভবনা থাকে খুবই বেশী ।
এই জন্য ,
মানব চরিত্র গড়ে তুলবার জন্য প্রথমই ভুমিকা রাখতে হবে প্রত্যেকটি অভিভাবককে একটি সুপরিকল্পিত মহত্তম চেতনায় । মানব চরিত্র গঠনের বিষয়ে প্রত্যেকটি অভিভাবককে মনোযোগী হতে হবে তার একটি বিশেষ ক্ষমতায় । কোনো ভাবে উদাসীন বা অমনোযোগী প্রকাশ থেকে সম্পূর্ণরূপে বিরত থেকে মেরুদন্ড সোজা করে দাঁড়িয়ে থেকে । সমস্ত কিছু পর্যবেক্ষণ করে নৈতিকতার সঙ্গে পরিচালনা করতে হবে তাঁর নিজেস্ব পরিবারকে । কেননা মানব চরিত্রের উপর নির্ভরশীল এই সমাজ ব্যবস্থা , রাষ্ট্র তথা পৃথিবীর পরিবেশবান্ধব সহ সকল সমাজ গোষ্ঠি ও জীবন ব্যাবস্থা । মানব চরিত্র গঠনে তাহলে অনিহা প্রকাশ সংশয় ভয় অনিচ্ছা কেন থাকবে ? মানব চরিত্র গঠনের অবহেলায় এক সময় নিজেরই বড় ধরনের বিপদ ও ক্ষতি হতে পারে । নিজ পরিবারে বড় দূর্ঘটনার স্বীকার হয়ে নিজেরই প্রাণনাশ ঘটছে এমন অহরহ বর্তমানে পেপার পত্রিকা ও বিভিন্ন টিভি চ্যানেলগুলোতে নিত্যনৈমিত্তিক দেখছি । দিন দিন নৈতিক মূল্যবোধ অনৈতিক নিম্নরূপঃ গহ্বরে তলিয়ে যাচ্ছে দেখে দেখে কখনোই নিরব নিশ্চুপ মুখ বুজে থাকবেনা এমন বিবেকবান জাগ্রত বিবেকের সংখ্যাও বড় বেশী কম । অথচ সকলেই উন্নত খাওয়া উন্নত আরাম আয়েশেের ব্যবস্থাপনায় বাঁচতে চায় । এই ব্যাবস্থা গ্রহণের প্রত‍্যাশায় যারা অনবরত শ্রেণী তৈরী করে চলছে , যারা নিচু তলার মানুষগুলোকে মানুষ ভাবতে রুচিতে বাধে । তারাও জানে মানব চরিত্র সংশোধন না হলে পৃথিবী সম্পূর্ণ সভ‍্য হবেনা । তাঁদের অসংশোধিত অবস্থায় এগিয়ে যাওয়া একদিন পিছনে ফিরতে বাদ্ধ করবে এইটা বুঝছেনা বিধায় অসত্য আর অনৈতিক কৃতকর্মে মত্ত থাকতে অভ‍্যাসত্ব হচ্ছে যত সময় যাচ্ছে তত ।
এই হীনমন্যতা দূর করার একমাত্র অবলম্বন হচ্ছে মানব চরিত্রের পূনঃগঠন প্রক্রিয়া পরিবর্তন করে মানবিক মূল্যবোধ ফিরিয়ে আনা । নিজেদের ব্যাবহার আচরনে নিজ পরিবারে সমতা সত্‍ ভাব নিরপেক্ষতা সৃজন করা । ছোটদের মধ্যে সামান্য কারনেও বৈষম্য শৈলীভাব ফুটে না উঠে সে দিকে গুরুত্ব দেয়া । সামাজিক দায়বদ্ধতায় সম্পূরক দায়িত্ব সম্পর্কে ছোট্ট থেকেই সেই দায়দায়িত্ব ভার কিছু কিছু করে তাদের কাধে তুলে দেয়া এবং প্রত‍্যূষে ঘুম থেকে উঠে প্রথম বাতরুম ও টুথ ব্রাশ দিয়ে ভালোভাবে দাঁত পরিস্কার সহ মুখ হাত পা ধুয়ে পড়তে বসা । এই সময় গুলোর মধ্যে যারা অন‍্যদেরও সাহায্য করলো একটু টুথ ব্রাশ কি টুথপেস্টটা এগিয়ে দিলো কিংবা টুথপেস্ট শেষ প্রায় তুমি নাও আমার অল্পতেই হবে – এই জ্ঞান গুলো জীবন গড়ার শুরুতেই দিতে পারলে মহত্তম যা অন্য বয়সে শেখালে অতোটা গুরুত্ব থাকবেনা । শরীরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গের সৌন্দর্য রক্ষার্থে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন মতে সম দৃষ্টি যেমনঃ চুল , নক ; কানের ভিতরের ময়লা , সাজপোশাক ; নাক – চোখ ও নিয়মিত সঠিক সময় করে ঘুম – নিয়মিত সকাল সকাল উঠা । যা স্বাস্থ্য ও মস্তিষ্কের জন্য উপকার যা ভবিষ্যৎ জীবনের জন্য গতিময় ছন্দময় ।
নিজ নিজ সন্তানের পাশাপাশি যখন অন‍্যেরাও সম আচরনে অভ‍্যাস্ত হবে উভয় উভয়ের প্রতি সমতা রাখার প্রয়াস রাখবে তখন সমাজ থেকে নিশ্চিহ্ন হবে লোভ , হিংসা ; ক্ষোভ , ঘৃণা ।
সম মেধা ভূমিষ্ঠ নবজাতক একই সমাজে বৈষম্যের পৃষ্ঠপোষকতা পেয়ে বড় হলে মানবিক শিল্পের বিকাশ বুঝবেনা অনেকেই । মানবিক শিল্প চর্চার বাইরে থাকতে চায়বে কেউ কেউ । একটা সময় নিচু তলার মানুষ গুলোকে কিভাবে দাবিয়ে রাখা যায় সে ক্ষেত্রে কঠোর অমানবিক পরিস্থিতির চূড়ান্তে উঠতে গিয়ে কত জঘন্যতম পদক্ষেপ গ্রহণ করে বসে তারা ভাবলেই রোমহর্ষক মনে হয় । নিচু তলার মানুষগুলো অনেক পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে গিয়ে শত অভাব টানাপোড়েনে মুখ থুবড়ে লাঞ্ছনা গঞ্জনার অস‍‍হ‍্য অপকর্মের হাজারো অপরাধে জড়িয়ে যেতে এও দেখছি দৈনন্দিন ।
তখন উঁচু তলা আর নিচু তলার মানুষ মানবিক আর কে অমানবিক পার্থক্য করে দেখিনা । সম অপরাধ সম অমানবিক সম অনৈতিক কর্মফল তা আর বিশ্লেষণ করে দেখিনা । যদি সম তলার মানুষ সম অপরাধ সংঘটিত করে সম মানদন্ডে দণ্ডিত হয় তবে বৈষম্যের প্রতিফল কি তা উপলব্ধি করছি নিশ্চয় সকলে ? সম অপরাধের স্বীকার হচ্ছি উভয়ে ও একই ভাবে সমাজটাকে কলুষিত করছি নিজেদের নির্বুদ্ধিতার কারনে । না সুশিক্ষা দিয়ে অপরাধ কমাতে পারলাম না উচ্চবিত্তশালী হয়ে পারলাম । বৈষম্য সমাজ থেকে দূর না হলে সমাজ পরিবর্তন কখনো হবেনা । এই কারণেই মানব চরিত্রের বৈষম্য কমেনা বরং ক্রমাগত বারে দৈনন্দিন ।
একদিকে চুরি ডাকাতি খুন জখম হত‍্যার বৃদ্ধির ফলে জন জীবন অতিষ্ঠ অন‍্যদিকে জোর জুলুম অত‍্যাচর দমন পীড়নে মানুষের স্বাভাবিক জীবন যাত্রার মানবিক মূল্যবোধ আতঙ্কিত ।
যখন উঁচু নিচু সমাজের ভাতৃত্ব বন্ধন না বসে নিজেরা নিজেদের মধ‍্যে ঠিক করতে পারলো । না করতে পারলো বৈষম্যের ক্ষ‍য় ক্ষতি নির্ণয় , তখন পৃথিবীর গতি পথে খুব স্বাভাবিক প্রতি পদে পদে প্রতিবন্ধকতা ও বাধার সম্মুখীন হয়ে থমকে যেতে থাকলো পৃথিবীর মানুষগুলো । মানুষ মানুষের কাছে লাঞ্ছিত পদদলিত হতে থাকলো অথচ মানুষ বুঝলোনা সেও মানুষ নিজেও মানুষ । এই আচরণ সভাব মানুষকে সম্পূর্ণ বদলে ফেলতে হবে । মানুষ মানুষের সাহায্যে এগিয়ে যাবে । অন‍্যের অভাব অনোটন ও সুখ দুঃখের খোঁজ খবর রাখবে । দুঃসময়ে দুর্দিনে পাশে গিয়ে দাঁড়াবে । তবেই কিছু একটা পরিবর্তন মনে হলে মনে হবে । তানা হলে কোনো পরিবর্তন আশা করা বোকামি ।
জীবন শুরুর পূর্ব মুহূর্তে অর্থাত্‍ শিশুকাল থেকে মানব চরিত্রের প্রতি সে প্রক্রিয়া ও প্রয়াস চলানোর কথা পূর্বে বলা হয়েছে তা ব্যতীত সামনে এগিয়ে যাওয়া সত‍্যি মুস্কিল । একজনের নাক দিয়ে গলগল করে পোটা পড়ছে আর দিব্বি পান চিবিয়ে মুখকে টকটকে লাল বানিয়ে অফিস করছে । পোশাক নোংরা অবস্থায় ডের যুগ ধরে চুল নক কাটেনি পাটিতে অংশগ্রহণ করছে , ভদ্র সমাজে মিশছে । উচ্চ শিক্ষার দাবী করে অথচ কথা বলার শ্রী নেই মুখকে বিক্রিত করে কথা বলে , না হয় উদাসীন দাঁড়িয়ে থেকে কথা শুনে জিজ্ঞেস করলে কিছুই বলতে পারেনা এতোক্ষণ কি শোনানো হলো তাকে । উচ্চ শিক্ষিত আর গায়ে পারফিউম লাগিয়ে নিলেই ভদ্র হয়ে যাওয়া যায়না । স্বভাব চরিত্র পোশাক কথা বলা হাঁটা এবং কি তার উঠা বসা চলার মধ্যেই ফুটে উঠে আসলে প্রত‍্যেকের আসল চরিত্র ।
এ সবে প্রত‍্যেকেই যদি সমতা দিয়ে নিজেদের গৃহে আন্তরিক অনুশীলনে অভ‍্যাস্ত হয় । নিজ সন্তানের পাশাপাশি আত্মীয়স্বজন পাড়া প্রতিবেশী তথা অন‍্যদের প্রতিও সেই অনুশীলনের সমতা রেখে প্রভাব ফলতে সকলেই যদি আন্তরিক থাকি তবে মানব চরিত্রের ব‍্যাপক পরিবর্তন লক্ষ করবো অবশ্যই আমরা । তবেই গৃহ থেকে শুরু করে আত্মীয়স্বজন পাড়া প্রতিবেশী সহ দেশ জাতি তথা পৃথিবীর সমস্ত মানুষের মধ্যে অফুরাণ সুখ শান্তি ফিরে আসবে । স্বভাব চরিত্রের মুনি মুক্তো হীরণ‍্যে ভরে উঠবে একেবারে চারদিক । মানুষ কর্মজীবী হবে । কর্মসংস্থানের জন্য ছুটে বেড়াবেনা কেউ কখনো বরং কর্মসংস্থান করে দিবার জন্য মানুষ মানুষকে আন্তরিক সর্বাত্মক সহায়তা দিবে । আসুন সেই ক্ষেত্রে বসে না থেকে প্রত‍্যেকেই নিজ নিজ গৃহে ফিরি । গৃহ নির্মাণের মধ্যে দিয়ে শুরু করি নতুন করে মানব চরিত্রের সমধীকার প্রতিষ্ঠিত করতে । সেই ক্ষেত্রে নিজেদের সঙ্গে পাশের মানুষটিকে কখনো না কোনো কারনে কোনো কিছুতে কোনো দিন একটকুু পার্থক্য করে দেখি । সবকিছু ভুলে আসুন এই শেষবার সমস্বরে প্রত্যয় গ্রহণ করি , নিজেরা করি ও অন‍্যদের গ্রহণ করতে উদ্বুদ্ধ করি বিশ্বময় —-

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *