পরাণ ভাই । PART- 6 Naser Kamal

পরাণ ভাই ।

PART-6

 

———————–ঃ নাসের কামাল

ফুটফুটে

——– ভোরে বসন্তের কোকিল ডাকছিলো এই নব বৈশাখে কুহু কুহু করে । ঝির ঝির নিষিক্ত হাওয়া গায়ে এসে লাগছিলো ভীষন । কজন কিশোরীকে দেখলাম হেঁটে যেতে পাশ দিয়ে । কয়েক জনকে দেখলাম মর্নিং ওয়ার্ক শেষ করে ফিরছে । অনেক কজনকে দেখলাম উৎসব মুখোর ভাবে ভাব নিয়ে হাঁটছে এক সাথে । তাঁদের পোষাক আশাক দেখেই বুঝেছি আজকে ধুম ধামের সঙ্গে ঢাক ঢোল বাজাবে এরা । বাজিয়ে গোটা রহণপুর শহরটাকে মাতিয়ে তোলবে ।

রাত্রি জাগরণে চোখ দুটো খচখচ করছিলো , না ঘুমানোর একটা ক্লান্তি উপলব্ধী করছিলাম মনে মনে । মানষিক ক্লান্তিও ছিলো প্রচুর আর দায়িত্ব পালনের দায়ভার ফেলে পশ্চাৎ মুখী চিন্তা মনে জ্ঞানে ঘৃনা করার প্রয়াস থেকে অনেক কটা বিষয় একত্রে ঘিরে বসেছিল মাথার ভিতর দৃঢ় ভাবে । তাছাড়া শান্তনার খুটি নাটি আরও বিস্তারিত জানতে পেরে অনেকটাই ঘাবড়ে গেছিলাম । তার পরও মেয়েটাকে যতটা বাচাল মনে হয়েছিল সে ধারণা সম্পূর্ণ বদলে দিয়েছে তাঁর ব্যবহারে তাঁর জীবন বিত্যন্তে কথাতে । এখন দেখছি নিরুপায় হয়েই সে এত বড় একটা রিস্ক নিয়েছে তাঁর জীবনের উপর ।
গায়ে বৈশাখী নববর্ষ হাওয়া নিয়ে হাঁটছিলাম অনেক দ্বিধা – দ্বন্দের মাঝে ।
গন্তব্য শ্রী গোপালের হোটেল । সকালের নাস্তা শান্তনাকে দিয়ে দুপুরের মত একবারে বেরিয়ে পরবো । এ সময়ের মধ্যে জেনে নিবো শান্তনার সম্পর্কে যদি সম্ভব হয় কিছু । তবে আগে বেড়ে বাড়তি কিছু করবার দরকার পরবেনা কারণ গোপালের হোটেলে সর্ব শ্রেণীর লোকের যাতাত আছে । এ সমস্ত ব্যাপার জানা জানি হলে নিশ্চয় কারো মুখে না কারো মুখে শুনতে পাবো । আর নিজের ক্ষেত্রে যে ভয় ছিলো সে ভয় রাত্রেই দূর হয়েছে । কারণ শান্তনার বিন্দু মাত্র সন্ধাত্বিত খোঁজ মিললে রাত্রেই এসে ছিনিয়ে নিয়ে যেত তাঁকে । এ ক্ষেত্রে শান্তনার পিতা মাতাকে কোনো প্রকার একটু বেগ পেতে হতনা , কারো সাহায্য সহযোগীতা নেওয়া লাগতো না । নিজেরা এসেই নিয়ে যেতে পারতো নির্ভয়ে । কারণ বলেছি ইতিপূর্বে নিজের বলতে এখানে কেউ নেই । এখানকার সকলকে সমিহ করে চলতে হয় নিজেকে মানিয়ে । আর বাস্তবে ও তাই সমাজের সকলেই জানে খুব ভালো নিরিহ শান্ত সুবোধ বলে । তাছাড়া নিজেকেও এখন বড় বেশী নিরিহ অসহায় বলে মনে হয় আরও । এ সময় পরাণ ভাই বর্তমান উপস্থিত থাকলে সাহস নিয়ে ঘুরতে চলতে পারতাম । সে সাহস এখন নেই সবি ফাঁকা ফাঁকা মনে হচ্ছে ।
পরাণ ভাইয়ের কথা গুলোই যেন ফিরে ফিরে আসছে মনে । কেন ভুল চিন্তা উপরে যেতে , একদিন সবাইকে নিচে যেতে হবে । আহা !
এতো সব মূল্যবান মূল্যবান কথা বলেন পরাণ ভাই । সত্যি এই সাহসে কথা বলতে চলতে সৎভাবে সৎ পথে বাঁচতে অফুরাণ আনন্দ পেয়েছি স্বীকার করি প্রতিনিয়ত নিজের কাছে । তার পরও কি সবটা পারি ? পারিনা । একটা অন্যায় আর মিথ্যের দায় ভার নিয়ে রাত্রি থেকে বর্তমান নিজের সাথেই একটা সামাজিক অপরাধে খামাকা জরিয়ে ফেলেছি নিজেকে । এখন বুঝছি কি সাংঘাতিক অনৈতিক অসামাজিক অপরাধের অপরাধী নিজেই করে বসে আছি নিজে থেকে ।
গোপালের হোটেলে ঢুকতেই পিছন থেকে সাজু ঘাড় চাপড়ে বলে উঠলো ,
– এই সিপু পরাণ ভাইয়ের ব্যাপারটা সবাই বলছে আমাকে । আসলে গতকাল কি হয়েছিলোরে ?
ভেবেছিলাম শান্তনার ব্যাপারেই কিছু একটা হয়তো বলবে কিন্ত প্রসঙ্গ উল্টো । ঘুরে স্বভাবিক যেভাবে বলি ওভাবেই উত্তর দিলাম ,
– তুই এখনও জানিস না ?
– না ।
– আশ্চর্য ! ব্যাপারটা সবাই জানে ।
– জানতে পারে । আমি জানি না বিধায় তো তোকে জিজ্ঞাসা করছি । ঠিক আছে এখন দেখ তাঁর পিতা মাতা কি করে ।
ফিরকির মত যেভাবে এসেছিলো ঘুরে সেভাবে চলে গেলো সাজু ।
এই সাজু পরাণ ভাইয়ের ঘাড়ে ঘাড় লাগিয়ে চলে । স্বার্থ ফুরালেই কেটে পরা তাঁর চিরাচরিত অভ্যেস এ অভ্যেস সে কখনো ছাড়তে পারবেনা । বিশেষ করে পরাণ ভাইয়ের বিপদের সময় তাঁর নিকটস্থ শুভাকাংক্ষিদের কাছে তাঁর বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর সব কথা ছড়িয়ে বেড়ানোর প্রবনতা তার খুবই বেশী এবং এভাবেই বলে বলে এক সময় সবাইকে বিব্রত করে ফেলে । সাজুর এ সুবর্ণ সময় গুলো এখন কাটবে পরাণ ভাইয়ের বিরুদ্ধে বকে । যার কাছে যেমন উপস্থাপন করা লাগে তার জ্ঞান মেধার সর্বস্ব দিয়ে লাগাম ছাড়া মুখ চলবে । মুখ চললেও ওইটুকু হুস আছে তার কাকে কি বলতে হবে ।
সাজুকে দেখলাম লিকলিকে ছেলেটির দোকান থেকে একটা সিগ্যারেট নিয়ে ধরালো । ধরিয়ে মুখ ভর্তি ধোয়া ছেড়ে বোঁ করে মাথার চুল ঘুরিয়ে ঝেড়ে দ্রুত চলে গেলো মা প্লাজার দিকে । জানি ওখানে আড্ডা দিবে এখন সে । ওখানে হাতে গোনা কজন মাঝ বয়সী বখ্যাটা থাকে ওদের মাঝে ঢুকে পরাণ ভাইয়ের বিরুদ্ধে পুস করবে পয়জেন । ঠিক আছে ওর সামনে দিয়ে যাবার সময় লক্ষ করে নিব একটু ওকে ।
গোপালকে ওডার দেওয়াই ছিল চার পিস পরাটা , রস মালায় আর একটা ডিমের মামলেট । সঙ্গে ডালও দিলো দেখছি । গোপালকে পেমেন্ট করে নাস্তার প্যাকেট নিয়ে লিকলিকে ছেলেটির সঙ্গে দেখা করলাম । ছেলেটিকে সাজু কিছু বলতে পারে এই উদ্দেশ্য করে তাকে জিজ্ঞাসা করলাম ,
– তোমার এখান থেকে একটু আগে একজন সিগ্যারেট কিনলো তুমি চিন ওকে ?
– কি কহিছেন সিপু ভাই । চিনবো না কেনে । পরাণ ভাইয়ের বিপারে ছ্যাচা কুছু কহেন না ফের । ফেসে যাবেন কিন্ত ।
– ও কি কিছু বলছিলো ?
– হামাকে কহেনি । খাঁড়িয়ে খাঁড়িয়ে যাকে কহিছিলো , হামি তাখুন শুননু সাবি । পারাণ ভাইয়ের বিরুদ্ধে কহোলো । মাথায় ঢুকেনা সাজু ভাইকে লিয়ে ঘুরে ক্যানে পারাণ ভাই ।
অপরিচিত এক ভদ্রলোক এসে দেখলাম বেশ স্বাচ্ছন্দে নাম ধরে ডাকলো ,
– মধু বেনসন দাও একটা ।
পরাণ ভাইয়ের মুখে এর আগেও শুনেছি এই মধুর নাম । তাহলে এরি নাম মধু । সচারাচর এদিকে আসা ছুঁটে গেছে । এক সময় রঞ্জু থাকাতে আড্ডা জমতো সিনামা হলে এই গোপালের হোটেলে প্রচুর । রঞ্জু এক প্রকার বসতি গড়ে ফেলেছিল বলা যায় এই হল তল্লাটে । Twenty four আওয়ার এখানেই আড্ডা ছিলো রঞ্জুর । নাইট স্কুলে বিনা বেতনের চাকরী । রাত্রি সাতটা ত্রিশ মিনিট থেকে দশটা । এ সময়ের মধ্যে স্কুল শেষ করে বাকি সময় এই গোপালের হোটেলে শেষে ফেরা তাঁর । তার পর রাত্রি দুইটা তিনটা কোনো হিসেব ছিলো না তাঁর এই আড্ডার । কতদিন নিজেকেও নিতে হয়েছে ওর নাইট স্কুলের ক্লাশ । বিনা বেতনের শিক্ষক কোন এক দিন কেউ একজন কমতি হলেই ডাক পড়তো । এই স্বেচ্ছা শ্রমের আত্ম তৃপ্তি নিজেও পেয়েছি কিছুটা । কিন্ত এ ঘুণে ধরা সমাজ কখনো দেখিনি বুঝেনি । এর কোন মূল্যায়ন কখনো কেউ করেনি । খুব মিস করছি এখন রঞ্জুকে ।
কেন জানি মধুকে দেখছিলাম আবার নতুন করে । মধু সম্পর্কে খুব সামন্য জানি । মধু এসেছে মরনপুর থেকে । মরণপুর এখান থেকে দূরবদ্ধ আর দূরের পথ । রহণপুর থেকে স্বাভাবিক যাতাত ব্যবস্থা নেই বললেই চলে ।
শুধু এইটুকু জানি যাতাত ব্যবস্থার এক মাত্র কারণে মরণপুরের অসুস্থ রোগী নিশ্চিৎ মারা যেতো । পায়ে হাঁটা আর গরুগাড়ি ছাড়া বিকল্প অন্য কোন উপায় ছিলো না । এমন দূর্গম মরুভূমি অঞ্চল যেখানে ডাক্তার যেতে অনিচ্ছুক বলে শোনার সঙ্গে সঙ্গে ঘোষনা দিতো পরিস্কার ভাষায় । পরাণ ভাইয়ের কাছ থেকে শুনা , মরণপুরের অসুস্থ রুগী মারা যাওয়ার প্রধান করণ গরু গাড়িতে রহণপুর পৌছতে এক দিন এক রাত সময় লেগে যায় । দিক প্রান্তহীন জমির ভিতর ভিতর দিয়ে দূর্গম রাস্তা । লোম হর্ষক – ভাবলেই শরীরে কাটা দিয়ে উঠে ।
এতো অত্যাধনিক নেটের যুগে কত দূর দূরুত্বের মাইল মাইল দূরে মরণপুরকে বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে এই নেটের সভ্যতা । এই সভ্যতার যারা দাবীদার । যারা আজ আধুনিক খুব নামি দামী ব্যায় বহুল পাজারুতে চড়ে গন ভোটের বাক্স ভরে গলায় ফুলের মালা পড়ে ঘুরছে এ দেশের মাটিতে । তাঁদের চোখ নাই তাঁরা দেখতে পায় না মরণপুরকে । শুনেছি মরণপুরে অতি সামান্য লোকের বসবাস । অতি সামান্য সংখ্যক ভোট – অতি সামান্য সস্তা মূল্যে বিক্রি হয়ে
যায় সেখানকার কিছু গুচ্ছিত ভোট । এরও মধ্যে কি যেন একটা রহস্য আছে । পরাণ ভাই বিস্তারিত জানে । কোনো একদিন বলবে বলে আর শুনা হয়নি । তবে এটুকু জানি মরণপুরে খুব আল্প সময়ের মধ্যে পরাণ ভাইয়ের পদ যাত্রা শুরু করবার একটা অঙ্গীকার ছিলো । মরণপুরকে নিয়ে তাঁর যে পরিকল্পনা তার সবটা না জানলেও কিঞ্চিৎ কিছু হলেও জানি । রহস্যের এই মরণপুরে সব রহস্য উৎঘাটোন করবার জন্যে মরণপুরে একটি বার হলেও পরাণ ভাই যাবে । আর কাকে সেখানে নিয়ে যাবে সেটাও জানি । সে অপেক্ষায় রইলাম পরাণ ভাই ।
মধুকে তাই আরেকবার দেখলাম একটু বৈচিত্রের চোখে । ওকে হাতের ইশারা করে মা প্লাজার দিকে উদ্দেশ্য নিয়ে হাঁটলাম । মা প্লাজার সামনে চারটা হুন্ডা দাঁড় করানো । খুব সম্ভবত ঔষধ কোম্পানীর রিপ্রেজেন্টিভদের হবে হয়তো ।ঔষধের দোকানটা খোলা দেখে মনে হলো আজ শুক্রবার । বড় শহর থেকে ডাক্তার আসবে । রোগীর ভীড় প্রচুর এখানে । মরণপুর থেকে এখানে রোগী এসে কেউ বাঁচেনি । মরণপুরের সব চেয়ে বেশী রোগী রহণপুর হেল্থ কমপ্লেক্স নিয়ে যাওয়া হয় । কখনো শুনিনি একটা রোগী বেঁচে ফিরে গেছে মরণপুরে ।
চারিদিক দেখছিলাম । নিতায়ের সেলুনে কাস্টোমারের ভীর । আশে পাশে শপিং সেন্টার গুলো এখন কেউ কেউ সবে মাত্র খুলছে ।
মা প্লাজা প্রকান্ড আয়তন জুড়ে ছয় তলা বিশিষ্ট বিল্ডিং । এই বিল্ডিং এর মূল ফটকের সামনে বেড়ুতে বামে গিয়ে একটি ছোট্ট চিপাই খাইরুলের পান সিগ্যারেটের দোকান । এইখানে দেখলাম সাজুকে দাঁড়িয়ে থাকতে – সিগ্যারেট ফুকছে বীর দর্পে । ওকে না দেখে পাশ কেটে চলে যাবো যেতামও তাই । কিন্ত পরের পাশের বিল্ডিং । সে বিল্ডিংও ছয় তলা বিশিষ্ট প্রকান্ড আর লম্বা হয়ে চলে গেছে সুইলস গেটের দিকে । নিচ তলা জুড়ে পুরোটায় অল্টোন এর শো রুম । শো রুমের শাটার বন্ধ মানেই এখনো শো রুম খোলেনি শো রুমের মালিক । এই বিল্ডিং এর বাম দিয়ে সুইলস গেটের প্রসস্থ রাস্তা তাই বিল্ডিং ঘুরতেই এই অল্টোন মোড় পরে । বিল্ডিং এর লাগায় দুই জন কনেষ্টেবুল ও একজন S.I কে দাঁড়িয়ে কথাপোকথন করতে দেখলাম তাঁদের নিজেদের মধ্যে । বুকটা হঠাৎ কেঁপে উঠলো । সোজা বড় রাস্তার মোড়ে আরেকজন কনেষ্টেবুলকে দেখলাম যেদিকে যাবো সেদিকটা হচ্ছে শ্রী হরিকরণ আঁচারী আখড়া বাড়ীর
দিক । সেই দিকে ঘুরে পুলিশটা দিক নির্নয় করছে দেখলাম ।
এই বিশেষ মোড়টি রহণপুর শহরের মধ্যবর্তী মোড় । এই মোড়কে টার্চ করে সবাইকে দিক বদল করতে হয় । একদিক আহমদীয়া ভবন । এই দিক দিয়ে খোয়ার মোড় হয়ে পারবর্তী পুর আড্ডা পোরশা শাপাহার বরেন্দ্র ভূমি এলাকা বলে পরিচিত এই দিক । একটি রাস্তা আড্ডার ডান দিক দিয়ে ধান সুরা মোড়ের বাম দিয়ে নিয়ামতপুর নওগাঁ এরও কিছু অংশ বরেন্দ্র ভূমি পরছে । আর ধান সুরার সোজা দিয়ে রাজশাহী অথবা আমনুরা হয়ে চাঁপাই নবাবগঞ্জ এরও প্রায় অংশ জুড়ে বরেন্দ্র ভূমি ।
আরেকটি দিক মহন্ত বাড়ী দিয়ে বড় বাজার এই বাজার প্রতি সোমবার পুরাতন বাজার বড় বাজার মিলে এক ঐতিহাসিক হাট বেলে বাংলাদেশের মধ্যে বৃহৎ ও প্রাচীন সুনামের সঙ্গে আজও টিকে আছে রহণপুরের নামের সঙ্গে এই সমবারের হাটটি । আজও সুনাম ও খ্যাতির সঙ্গে বিদ্যমান ।
আর নিজে যেদিকে রয়েছি সেই দিক মুক্তাশা সিনামা হল । এই দিক দিয়ে কলেজ মোড় হয়ে গোমস্তাপুর মোড়ের ডান দিক দিয়ে থানার সামনে দিয়ে কানসার্ট হয়ে সোনা মসজিদ মোহদিপুর সীমান্ত এলাকা । গোমাস্তাপুরের বাম দিয়ে আরেকটি রাস্তা চাঁপাই নবাবগঞ্জ রাজশাহী হয়ে ঢাকা যাতাতের জন্য খুব উত্তম উপযোগী এই রাস্তা চলে গেছে ।
রহণপুরের এই মধ্যবর্তী সীমানায় মাত্র পনের বিশ হাতের সল্প দূরুত্বের ব্যবধানে এই দু দুটো মোড় । দুটো মোড়ই ব্লক করে রেখেছে । কিছুতেই বুঝে উঠতে পারছিলাম না এ অবস্থায় কি করবো কি করা উচিৎ । তবে কি শান্তনার ব্যাপারটা পুলিশ পর্যন্ত গড়িয়ে গেছে ? হয়তো হবে । না হবার বিচিত্র কোনো কারণ দেখি না । যদি থাকে তবে সেটা এক মাত্র শান্তনার পরিবারের দিক দেখে । তাঁদের মান সম্মান ঐতিহ্যের কথা ভেবে হয়তো হলে হবে ।
ভদ্র পরিবারে সাধারণত মান সম্মানের ভয়ে মুখ খুলে না খুব সহজে কেউ । এরকম ভেবেই সাহস করে পা রাখলাম সামনে যা হবার হবে । ওদের লক্ষ করলাম ওরা চোতুর মুখী বড় চঞ্চল অস্থির মনে হলো ওদের দেখে । মোড়টার কাছে এগিয়ে যেতে আরো তিন চার জন ছেলে ছোকরা জুটে গেলো S.I এর কাছে । একটু উচ্চ স্বরেই জিজ্ঞাসা বাদ করছিলো কানে স্পষ্ট ভেসে এলো শান্তনার ব্যাপারে না । ওরা এসেছে কিছু চোরাই হুন্ডার খোঁজে । হাফ ছাড়লাম । যাক পরিস্কার ব্যাপারটা । মাথাটা এতোক্ষনে হালকা হলো । মনে হলো শরীর থেকে জর নামছে ।
আজকাল এলাকায় হুন্ডা চোরের দৌরাত্মা সীমাহীন । প্রায় প্রতিদিন রহণপুর শহরের বিভিন্ন স্পট থেকে চুরি যাচ্ছে হুন্ডা । এক অভিনব কায়দায় শহরের বাইরে নিয়ে চলে যাচ্ছে । পুলিশ প্রশাসন , স্থানীয় জনবল ও সামাজিক লোক চোক্ষুর কাছ থেকে আড়াল করে এতো বড় কাজটি কারা করছে এবং কারা এদের সহায়তা করছে । চিহ্নিত কেউ কাউকে করতে পারছে না এখনো সঠিক ভাবে কেউ । কিছুদিন পূর্বে আইশা ফুড প্যালেশ চাইনিজ রেষ্টুরেন্ট এর সামনে থেকে এক হুন্ডা চোরকে হাতে নাতে ধরলো ওখানকার স্থানীয় জন সাধারণ । জনগনের জিজ্ঞাসা বাদে কিছু নাম তাঁর স্বীকার উক্তিতে বেড়িয়ে এসেছিলো । পুলিশের হেফাজতে চলে যাবার পর সেই নাম পূণরায় পুনরুদ্ধার করা আর সম্ভব হয়নি । শুনেছি তিন ঘন্টা অতিবাহিতর পর পুলিশী হেফাজত থেকে ছাড়া পেয়ে এ শহরেই বীর দর্পে ঘুরে বেড়িয়েছে কেউ তাঁর পশমটাও ছুঁতে পারিনি ।
এই ঘটনার কিছু দিন পর আরেকটি ঘটনা যা সারা বাংলাদেশে ব্যপক চাঞ্চল্যকর বলে পেপার পত্রিকা টিভি চ্যানেল মিডায়ায় সাড়া পরে গেছিল । এমন একটি ঘটনার জন্য গোমস্তাপুর থানা পুলিশ তথা বাংলাদেশের পুলিশ প্রশাসনের উপর ব্যপক শ্রদ্ধাবোধ ক্রমানয়ে গন মানুষের বেড়ে গেছিলো । মানুষ অকোপটে বলতে শিখেছিলো পুলিশ সত্যই জনগনের প্রকৃত বন্ধু ।
ঘটনাটা ঘটেছিলো অর্ধ রাতে । গোমাস্তাপুর থানা পেরিয়ে চৌডলা ব্রিজ পার হয়ে যে তিন জন হুন্ডা চোরকে গন পিটোনিতে মেরে ফেলা হয়েছিলো । এরি অদৃশ্যে সর্বময় সাহায্য সহায়তার মূলে মূল ভুমিকায় ছিল সেই দিন গোমস্তাপুর থানার প্রশাসন ।
এই হুন্ডা চোরদের নির্মম অত্যাচার আর বিভৎস উৎপাতে মানুষের মুখে আগের মত সেই আর হাসি আনন্দ ছিলো না । অনেক মানুষের প্রান গেছে । অসংখ্য হুন্ডা গেছে । গুচ্ছিত অর্থ গেছে । একজন S.I এরও প্রান হানি ঘটতে পারতো মাথায় চোট পেয়েছিলো মারাত্মক ভাবে । শুধু মাত্র খাকি পোষাক দেখে পালিয়েছিলো চোরেরা রাত্রে ।
এই তিন চোর মৃত্যূর পর মানুষ নিশ্চিন্তে ঘুমাতো । নিরাপদে চলতে ফিরতে পারতো । ব্যবসা বানিজ্য করতে পারতো ।
আবার কি হলো নতুন করে?
একদম হঠাৎ করেই এই পাঁচ দিন আগে গোমস্তাপুর বাজার থেকে একটা নতুন ডিসকোভার হুন্ডা চুরি গেলো । বাবু নামের এক স্কুল মাস্টার সে হুন্ডা লক করে রেখে বাজার করতে গেছিলো । বাজার করে এসে দেখে যথা স্থানে হুন্ডাটা নেই ।
নেই তো নেই এখন পর্যন্ত নেই ।
এখন কত মানুষের হুন্ডা চুরি যাবে । কত অর্থ যাবে । মানুষের প্রান নাশ হবে ।
এ সব ভেবে কি আর মনে
প্রশান্তি ফিরে ? এ সব মনে করে ভাবতে আর ভালো লাগেনা । কার কি হবে হোক এখন । আর ভাবছি না ।
হাঁটছিলাম মোড় পেরিয়ে কিছুটা দূরে চলে গেছি কেউ ভ্রূক্ষেপ করেনি এদিকে । হাতে শান্তনার নাস্তার প্যাকেট ঝুলছে । মোবাইল ফোনে রিংটোন বেজে উঠলো ছোট ছোট আশা ।
অপরিচিত নম্বর Receive করলাম সালাম দিয়ে ।
কাঞ্চন এর ফোন । এ নম্বরটা ওর নতুন নম্বর ।
– কি ব্যাপার সিপু তুই এতোক্ষন বাইরে কি করছিস । শান্তনা বিরক্ত হয়ে গেছে ।
– ইচ্ছে করেই দেরি করছি ।
– তাই বলে এতো দেরি —
– তোদের চ্যাটে ভিড়িয়ে দিয়ে বিশেষ লাভ করতে পারিনি দেখছি । পৌছে গেছি । দরজা খুলছি । তোকে চ্যাটে শান্তনা এখনি জানিয়ে দিচ্ছে ।
– না । আমি সরাসরি কথা বলবো প্লিজ তুই ওকে মোবাইলটা ধরিয়ে দে ।
তুই সারা জীবন লেজি থেকে গেলি
সিপু । তোর জন্যে জীবনে কতবার যে ট্রেন ফেল করেছি –
– এই নে শান্তনার সাথে কথা বল ।
ততক্ষনে শান্তনার হাতে স্কিন টার্চ ফোনটা তুলে দিলাম ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *